হাফিজ উদ্দিন খানের প্রয়াণে প্রধান উপদেষ্টার গভীর শোক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ বার
হাফিজ উদ্দিন খানের মৃত্যু শোক

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট কর্মী এম হাফিজ উদ্দিন খানের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও নাগরিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের কর্মময় জীবনের নানা দিক স্মরণ করে বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে হাফিজ উদ্দিন খানের অবদান জাতির ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শোকবার্তায় বলেন, এম হাফিজ উদ্দিন খান ছিলেন একজন সৎ, প্রজ্ঞাবান ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রকর্মী। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি যে সততা, নিষ্ঠা ও নৈতিক দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান ও নির্ভীক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তাঁকে আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শোকবার্তায় প্রফেসর ইউনূস আরও ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনেও এম হাফিজ উদ্দিন খান তাঁর সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। জীবনের নানা সময়ে তাঁর প্রজ্ঞা, মানবিকতা ও স্পষ্টভাষিতা তাঁকে গভীরভাবে সমৃদ্ধ করেছে। এই মৃত্যুতে তিনি কেবল একজন দক্ষ সহকর্মীকেই নয়, বরং একজন বিশ্বস্ত বন্ধু ও সঙ্গীকেও হারালেন বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর এই ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশে শোকবার্তাটি আরও মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী হয়ে ওঠে।

এম হাফিজ উদ্দিন খান ছিলেন এমন একজন প্রশাসক, যিনি দায়িত্বকে কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেননি। ডাক, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছেন। সহকর্মী ও অধস্তনদের কাছে তিনি ছিলেন নীতিবান, কিন্তু একই সঙ্গে সহানুভূতিশীল একজন অভিভাবকতুল্য কর্মকর্তা। তাঁর নেতৃত্বে অনেক প্রশাসনিক সংস্কার ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে, যা পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি অর্থ ও পরিকল্পনাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। এমন প্রেক্ষাপটে তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ওই সময়ের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

নাগরিক সমাজের একজন বিশিষ্ট কর্মী হিসেবেও এম হাফিজ উদ্দিন খানের পরিচিতি ছিল সুপ্রতিষ্ঠিত। অবসর গ্রহণের পরও তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন, আলোচনায় অংশ নিয়েছেন এবং নৈতিক ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ক্ষমতার বাইরে থেকেও তিনি যে রাষ্ট্রের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারেন, তা তাঁর জীবন ও কর্মের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শোকবার্তায় উল্লেখ করেন, হাফিজ উদ্দিন খান কর্মজীবনে যে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যে ভূমিকা রেখেছেন, তা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। তিনি বলেন, এমন ব্যক্তিত্বের অভাব রাষ্ট্র ও সমাজে দীর্ঘদিন অনুভূত হবে। তাঁর মতো নীতিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রকর্মী বর্তমান সময়ে খুবই প্রয়োজন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকেও এম হাফিজ উদ্দিন খানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁকে একজন নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও সৎ প্রশাসক হিসেবে অভিহিত করে অনেকেই বলেছেন, তাঁর জীবন ছিল আদর্শ রাষ্ট্রসেবার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়ে অসংখ্য মানুষ স্মৃতিচারণা করছেন। অনেকেই তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেছেন, তিনি ছিলেন সিদ্ধান্তে দৃঢ় কিন্তু আচরণে বিনয়ী।

প্রসঙ্গত, এম হাফিজ উদ্দিন খান বুধবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবারের সদস্য, অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ও সহকর্মী রেখে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে শুধু একটি পরিবার নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজ একজন অভিজ্ঞ অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে হারাল বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধান উপদেষ্টা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই শোকের সময়ে রাষ্ট্র তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছে এবং জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁর অবদান স্মরণ করবে।

এম হাফিজ উদ্দিন খানের জীবন ও কর্ম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, রাষ্ট্রসেবা কেবল একটি পেশা নয়, বরং এটি একটি নৈতিক দায়। সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সমন্বয়ে একজন প্রশাসক কীভাবে জাতির আস্থা অর্জন করতে পারেন, তাঁর জীবন তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর আদর্শ ও কর্মধারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন রাষ্ট্র ও সমাজের নানা স্তরের মানুষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত