ঘুরে দাঁড়িয়ে বার্সেলোনার জয়, শীর্ষ আটে বায়ার্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ বার
ঘুরে দাঁড়িয়ে বার্সেলোনার জয়, শীর্ষ আটে বায়ার্ন

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবারের রাত ছিল নাটক, প্রত্যাবর্তন আর শক্তির প্রদর্শনে ভরপুর। একদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের মাঠে পিছিয়ে পড়েও দারুণ মানসিক দৃঢ়তায় জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা, অন্যদিকে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ নিশ্চিত করেছে শীর্ষ আটে নিজেদের অবস্থান। একই রাতে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল ও চেলসিও। গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচগুলো টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের হিসাবকে করেছে আরও জটিল ও রোমাঞ্চকর।

চেকিয়ার রাজধানীতে স্লাভিয়া প্রাহার বিপক্ষে ম্যাচটি বার্সেলোনার জন্য সহজ হওয়ার কথা ছিল না, সেটিই প্রমাণ হলো ম্যাচের শুরুতেই। ঘরের মাঠের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভর করে স্লাভিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে এবং প্রথমেই গোল করে এগিয়ে যায়। হঠাৎ করে গোল হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বার্সেলোনা। তবে এই চাপকে শক্তিতে রূপ দেওয়ার ক্ষমতাই বড় দলের আসল পরিচয়। হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে।

মিডফিল্ডে বল দখল বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে কাতালানরা। সেই চাপের ফল আসে প্রথমার্ধেই। তরুণ মিডফিল্ডার ফেরমিন লোপেজ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জোড়া গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। তাঁর গতিময় দৌড়, বক্সে ঢুকে পড়ার সাহস এবং নিখুঁত ফিনিশিং স্লাভিয়ার রক্ষণকে বারবার বিপর্যস্ত করে তোলে। মনে হচ্ছিল, বিরতিতে যাওয়ার আগেই ম্যাচটি বার্সেলোনার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

কিন্তু ফুটবল যে অনিশ্চয়তার খেলা, সেটিই আবার প্রমাণ হয় প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে। বার্সেলোনার অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভান্ডোভস্কির একটি দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে সমতা ফেরে। ২-২ গোলে বিরতিতে যায় দুই দল। এই গোল বার্সেলোনার জন্য মানসিকভাবে বড় ধাক্কা হলেও বিরতির পর ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বার্সেলোনা। বলের দখল, দ্রুত পাসিং আর উইং দিয়ে আক্রমণে স্লাভিয়াকে কোণঠাসা করে রাখে তারা। ৬৩তম মিনিটে দানি ওলমোর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আবার লিড নেয় অতিথিরা। এই গোলের পর বার্সেলোনার খেলায় আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্লাভিয়া সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও রক্ষণভাগে আরও মনোযোগী হয়ে ওঠে কাতালানরা। ৭০তম মিনিটে নিজের ভুল পুষিয়ে নিতে লেভান্ডোভস্কি দুর্দান্ত এক গোল করলে জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

এই জয়ে সাত ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৩। তারা রয়েছে নবম স্থানে। তবে পয়েন্ট টেবিলের এই অংশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এতটাই তীব্র যে তাদের ওপরে থাকা তিনটি দল এবং নিচে থাকা চারটি দলেরও পয়েন্ট সমান। ফলে শেষ ম্যাচগুলোতে সামান্য এদিক-ওদিকই বদলে দিতে পারে পুরো চিত্র।

অন্যদিকে জার্মানিতে বায়ার্ন মিউনিখ দেখিয়েছে কেন তারা ইউরোপের অন্যতম ধারাবাহিক শক্তিশালী দল। বেলজিয়ামের ক্লাব রয়্যাল ইউনিয়ন সেন্ট-গিলোইসের বিপক্ষে প্রথমার্ধে কিছুটা প্রতিরোধের মুখে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে পুরো ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাভারিয়ানরা। ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি দলের প্রধান ভরসা।

৫২তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত কর্নার থেকে হেডে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেইন। মাত্র দুই মিনিট পর আবার আক্রমণে গিয়ে ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন তিনি। পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই স্ট্রাইকার। দুই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়। যদিও ৬৩তম মিনিটে বাজে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বায়ার্নের দক্ষিণ কোরিয়ান ডিফেন্ডার কিম মিন-জে, তবুও সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় বেলজিয়ান ক্লাবটি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে শীর্ষ আটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে বায়ার্ন মিউনিখ।

ফ্রান্সের মার্সেইতে লিভারপুলের জয়ও ছিল আত্মবিশ্বাস ফেরানোর গল্প। ঘরোয়া ফুটবলে সময়টা ভালো না গেলেও ইউরোপের মঞ্চে নিজেদের চেনা রূপে ধরা দিয়েছে আর্নে স্লটের দল। ম্যাচের প্রথমার্ধে দু’দলই সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি কেউ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডমিনিক সোবোসালাই দুর্দান্ত এক শটে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন। এই গোল যেন পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুল আরও সংগঠিত ফুটবল খেলে। প্রতিপক্ষ গোলকিপারের এক ভুল থেকে আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। মার্সেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও লিভারপুলের রক্ষণ ছিল দৃঢ়। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে কোডি গাকপো তৃতীয় গোলটি করলে ৩-০ ব্যবধানের দারুণ জয় নিশ্চিত হয়। সাত ম্যাচ শেষে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে উঠে এসেছে অল রেডরা।

ইংলিশ ক্লাব চেলসিও এই রাতে জয় পেয়েছে। সাইপ্রাসের ক্লাব পাফোস এফসির বিপক্ষে একমাত্র গোলের ম্যাচে জয় তুলে নেয় তারা। ম্যাচটি খুব বেশি ঝলমলে না হলেও তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করাই ছিল চেলসির মূল লক্ষ্য, যা তারা সফলভাবেই পূরণ করেছে। একই রাতে জয় পেয়েছে ইতালির জুভেন্টাস ও ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনাইটেড। জুভেন্টাস ২-০ গোলে হারিয়েছে বেনফিকাকে, আর নিউক্যাসল ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে পিএসভিকে।

অন্যান্য ম্যাচেও ছিল উত্তেজনা। গালাতাসারাই ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। কারাবাগ নাটকীয় লড়াইয়ে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ফ্রাঙ্কফুর্টকে। আতালান্তা ও বিলবাওয়ের ম্যাচে পাঁচ গোলের লড়াই শেষে জয় পেয়েছে বিলবাও।

সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই রাত প্রমাণ করেছে, গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে প্রতিটি ম্যাচই কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বড় দলগুলো যেমন নিজেদের শক্তি দেখাচ্ছে, তেমনি মাঝারি দলগুলোর প্রতিরোধও টুর্নামেন্টকে করে তুলছে আরও রোমাঞ্চকর। নকআউট পর্বের আগে এই জয়-পরাজয়ের হিসাব শেষ পর্যন্ত কার জন্য সুখবর বয়ে আনে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত