ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে: সিলেটে তারেক রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৭ বার
ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে: সিলেটে তারেক রহমান

প্রকাশ: ২২  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের জনগণকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আবারও ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা একটি কুচক্রী মহল জনগণের ভোটাধিকার হরণে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষায়, অতীতে যারা ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল, তারাই একই কৌশলে আবার মাঠে নামার চেষ্টা করছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরের ঐতিহ্যবাহী আলীয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এই সমাবেশের মধ্য দিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো আলীয়া মাদরাসা মাঠ উৎসবমুখর হলেও বক্তব্যে ছিল সতর্কবার্তা ও রাজনৈতিক শঙ্কার সুর।

তারেক রহমান বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে একটি মহল নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি বলেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরা লক্ষ্য করছি, বাংলাদেশের ভেতরে কিছু মহল আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।” তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যেসব অভিযোগ সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে, সেগুলো এই ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে যেভাবে জনগণের ভোট ছিনতাই করা হয়েছিল, আজও ঠিক একইভাবে পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা যেভাবে আপনাদের ভোট ডাকাতি করেছিল, ঠিক একইভাবে আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।” তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই নয়, নাগরিক হিসেবেও প্রত্যেককে নিজের ভোটাধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

সমাবেশে সিলেট অঞ্চলের শহীদ ও নিখোঁজ নেতাদের স্মরণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি সিলেটের সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া নেতাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আপনাদের ইলিয়াস আলী, দিনার, জুনায়েদসহ হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি।” তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে সিলেটে ১৩ জন মানুষের জীবন উৎসর্গের কথা জাতি কখনো ভুলতে পারে না। এই ত্যাগই প্রমাণ করে, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের মানুষ কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তারেক রহমান বলেন, এসব প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার নস্যাৎ করতে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশি-বিদেশি শক্তির মদদে একটি গোষ্ঠী নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। তবে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তার ভাষায়, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দেশের জনগণ প্রমাণ করে দিয়েছে, বাংলাদেশি জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব।”

তিনি সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা কি পারবেন না এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে?” এরপরই নিজেই উত্তর দেন, “ইনশাল্লাহ, পারবেন।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় এবং মাঠজুড়ে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

সমাবেশের আগে তারেক রহমান সিলেটে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট নগরের বিমানবন্দর এলাকার একটি হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভায় তিনি অংশ নেন। সেখানে অরাজনৈতিক প্রায় ১৩০ জন তরুণ ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করেন তিনি। তরুণদের প্রশ্নের জবাবে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা, গণতন্ত্র, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, তরুণ সমাজের সঙ্গে এই সংলাপকে দলটি আগামী দিনের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।

তারেক রহমান বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেটে পৌঁছান। রাত ৭টা ৫০ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান এবং গভীর রাতে সেখানে পৌঁছান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেটের এই সমাবেশ বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি বড় জনসমাবেশে তারেক রহমানের বক্তব্য দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে ভোটাধিকার, স্বচ্ছতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে এনে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে।

সিলেটের আলীয়া মাদরাসা মাঠের সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান মূলত একটি বার্তাই স্পষ্ট করেছেন—আগামী নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, এটি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। আর এই লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে জনগণকেই সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত