ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ছয়টি উপকারী খাবার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬২ বার
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ছয়টি উপকারী খাবার

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ক্যানসার বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ও আতঙ্কের নাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও ক্যানসার এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই বিশেষজ্ঞরা বারবার জোর দিচ্ছেন প্রতিরোধমূলক জীবনধারার ওপর। ধূমপান ও মাদক পরিহার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসও ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকৃতিতে এমন কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এসব খাবারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক যৌগ শরীরের কোষকে সুরক্ষা দেয়, ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে সহায়তা করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ক্যানসার কোনো একদিনে সৃষ্ট রোগ নয়। এটি দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত প্রভাবের ফল। ফলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু সচেতন পরিবর্তন এনে এই ভয়ংকর রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সেই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে কয়েকটি সহজলভ্য কিন্তু অত্যন্ত উপকারী খাবার।

ক্যানসার প্রতিরোধী খাবারের তালিকায় প্রথমেই আসে মাশরুমের নাম। মাশরুমে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে সেলেনিয়াম ও বিভিন্ন বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মাশরুম খাওয়ার অভ্যাস স্তন ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন রান্নায় মাশরুম রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ পায় এবং কোষের ক্ষয় রোধ হয়।

সবুজ শাকসবজি ক্যানসার প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। বিশেষ করে কোলিনসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি যেমন ব্রকোলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শর্ষেশাক ও মুলা ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব সবজিতে থাকা সালফারযুক্ত যৌগ শরীরের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে। নিয়মিত সবুজ শাকসবজি খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এপিজেনিন নামের একটি প্রাকৃতিক যৌগ সাম্প্রতিক সময়ে ক্যানসার গবেষণায় বিশেষ আলোচনায় এসেছে। এই যৌগ শরীরের ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। চেরি, আঙুর, আপেল, ধনেপাতা ও পার্সলে পাতায় প্রচুর পরিমাণে এপিজেনিন পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, এসব খাবার নিয়মিত খেলে স্তন ক্যানসার, প্রস্টেট ক্যানসার, ফুসফুস ক্যানসার, ত্বকের ক্যানসার এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে। ফল ও শাকসবজির মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে এই যৌগ গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী।

ভিটামিন সি ক্যানসার প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এই ভিটামিন শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামতে সহায়তা করে। কিউয়ি ফল ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেমোথেরাপির পর রোগীর শরীর পুনরুদ্ধারে কিউয়ি ফল ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কিউয়ি ছাড়াও কমলালেবু, পাতিলেবু ও আঙুরের মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল নিয়মিত খেলে শরীরের ভেতরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে একটি শক্ত প্রতিরক্ষা গড়ে ওঠে।

গ্রিন টি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের পছন্দের পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ইজিসিজি নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পানকারীদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত মাত্রায় গ্রিন টি পান করাই স্বাস্থ্যসম্মত।

রসুনকে প্রাকৃতিক ওষুধ বলা হয়। এতে থাকা অ্যালিসিন নামক যৌগ ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই উপাদান ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর কোষ ধ্বংস করতেও সহায়তা করে। রান্নায় নিয়মিত রসুন ব্যবহার করা ছাড়াও কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, বরং সামগ্রিক সুস্থ জীবনযাপনের অংশ। ক্যানসার প্রতিরোধে শুধু একটি বা দুটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর। একই সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক প্রশান্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ক্যানসার প্রতিরোধের নামে অতিরঞ্জিত তথ্য বা গুজবে কান না দিয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পরামর্শ নেওয়া উচিত। খাবার অবশ্যই ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতিদিনের খাবারের পাতে সচেতন পরিবর্তন এনে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে ক্যানসারের মতো ভয়ংকর রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সহজলভ্য এই ছয়টি খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর পাবে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, আর ভবিষ্যৎ হবে আরও সুস্থ ও নিরাপদ

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত