নবম শ্রেণির বাদ পড়াদের জন্য আবার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৬ বার
নবম শ্রেণির বাদ পড়াদের জন্য আবার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ

প্রকাশ: ২৪  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে না পারা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী—এমন শিক্ষার্থীদের জন্য আবারও রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনরায় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। চিঠিটি বোর্ডের আওতাধীন অনুমোদিত ও স্বীকৃত সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, কারণ রেজিস্ট্রেশন না হলে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন অনুমোদিত ও স্বীকৃতি পাওয়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য এই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলবে। সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, এই সময়ের পর আর কোনো অবস্থাতেই বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ দেওয়া হবে না। অর্থাৎ এটি একবারের জন্য দেওয়া শেষ সুযোগ বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

বোর্ডের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হলে তার দায়দায়িত্ব সরাসরি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বহন করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বোর্ড। অতীতে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অবহেলা, তথ্যগত ভুল কিংবা সময়সীমা সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদ পড়ে যায়। নতুন করে দেওয়া এই সুযোগে যেন আর কেউ বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়েও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে বোর্ড।

এই সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অন্য শিক্ষা বোর্ড থেকে স্থানান্তর সনদ বা টিসির মাধ্যমে ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও এই সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে বোর্ড পরিবর্তনের কারণে যেসব শিক্ষার্থী আগের ধাপে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি, তারাও এবার সুযোগ পাবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত, কারণ বোর্ড পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়, যার ভুক্তভোগী হয় শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন এসএসসি পরীক্ষার একটি অপরিহার্য ধাপ। এই রেজিস্ট্রেশনের তথ্যের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার রোল নম্বর, কেন্দ্র নির্ধারণসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন হয়। ফলে কোনো শিক্ষার্থী যদি রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদ পড়ে, তাহলে পরবর্তী সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণেই বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরা।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কোথাও কোথাও অনলাইন কার্যক্রমে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে সময়মতো তথ্য হালনাগাদ না করায় শিক্ষার্থীদের নাম বাদ পড়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের তথ্যগত ভুলও একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বোর্ড পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি পরীক্ষার সুযোগ থেকে শিক্ষার্থী বাদ পড়ে যাওয়া শুধু তার ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের জন্যই নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও নেতিবাচক। একজন শিক্ষার্থী একটি বছর হারালে তার মানসিক চাপ বাড়ে, পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে ঝরে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই প্রশাসনিক কারণে কেউ যাতে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। ঢাকা বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন তারা।

অভিভাবকরাও বোর্ডের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, সন্তানের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। নতুন করে সুযোগ পাওয়ায় তারা স্বস্তি অনুভব করছেন। তবে একই সঙ্গে তারা অনুরোধ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা হয়, যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি বারবার তৈরি না হয়।

অন্যদিকে, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করাই নিয়ম। পুনরায় সুযোগ দেওয়া হলেও এটি কোনোভাবেই নিয়মিত প্রক্রিয়া নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের তথ্য যথাসময়ে অনলাইনে আপডেট করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সময়মতো সরবরাহ করা যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নবম শ্রেণির বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য আবার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক সিদ্ধান্ত। এটি অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন রক্ষায় সহায়ক হবে। তবে বোর্ডের কঠোর সতর্কবার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এটাই শেষ সুযোগ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এই সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত