ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নতুন চার র‍্যাম্প সংযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ বার
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার দীর্ঘদিনের সমস্যার অন্যতম, ক্রমবর্ধমান যানজট মোকাবেলায় বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। চালু হওয়া মূল এক্সপ্রেসওয়েতে নতুন চারটি র‍্যাম্প সংযুক্ত করার প্রস্তাবনা আসছে, যা নগরবাসীর যাতায়াতকে আরও সহজ ও সময় সাশ্রয়ী করার সম্ভাবনা তৈরি করবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নতুন র‍্যাম্পগুলো মূল এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সরাসরি সংযুক্ত করবে।

প্রত্যাশিত চারটি র‍্যাম্পের মধ্যে একটি পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে, আরেকটি মহাখালী বাস টার্মিনালের সাথে এক্সপ্রেসওয়েকে যুক্ত করবে। এছাড়া রামপুরা, আফতাবনগর ও খিলগাঁওকে মূল এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি র‍্যাম্প এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শেষ প্রান্ত থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য আরেকটি র‍্যাম্প নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

নগরবাসী ও যাতায়াতকারীরা নতুন র‍্যাম্প চালুর পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী। তারা মনে করছেন, নতুন সংযোগগুলো চালু হলে রাজধানীর যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজ হবে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন আগে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করা জরুরি, যাতে নতুন র‍্যাম্প সংযোগের ফলে কোথাও নতুন ধরনের যানজট বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন র‍্যাম্প যুক্ত করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রধান বিষয় হলো মূল এক্সপ্রেসওয়ের ধারণ ক্ষমতা এবং সংযোগস্থলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া লেন ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে আধুনিক ট্রাফিক ডিজাইন, যথাযথ সাইনেজ ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘র‍্যাম্প যুক্ত করলে সেখানে ট্রাফিক প্রবাহ বেড়ে যাবে। কিন্তু মূল এক্সপ্রেসওয়ের সক্ষমতা কতটুকু তা আগে পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি নিচের সড়ক থেকে অতিরিক্ত গাড়ি উঠে আসে, তবে মূল এক্সপ্রেসওয়েতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই র‍্যাম্প যুক্ত করার আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি, বিস্তারিত নকশা ও পরীক্ষামূলক মূল্যায়ন করা আবশ্যক।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন র‍্যাম্পের সংযোগ নীচের সড়কের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে, নয়তো যানজট আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। প্রকল্প পরিকল্পনা করার সময় এই সব বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য ৪৬.৭৩ কিলোমিটার। ইতিমধ্যেই ৩১টি র‍্যাম্প বসানো হয়েছে। নতুন চারটি র‍্যাম্প সংযুক্ত করার আগে বিস্তারিত পরীক্ষণ, সম্ভাব্যতা যাচাই ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করাই মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, নতুন র‍্যাম্পের কার্যকারিতা এবং মূল এক্সপ্রেসওয়ের সক্ষমতার সুষমা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পকে বাস্তবায়নে নেওয়া হবে না।

নগরবাসীর জন্য নতুন র‍্যাম্পের সুবিধা শুধু সময় সাশ্রয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দূরপাল্লার যানবাহন, বাস ও লাইট যানবাহনের জন্যও সুবিধা সৃষ্টি করবে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র, বাস টার্মিনাল ও আবাসিক এলাকা মূল এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজধানীর যানজট মোকাবেলায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও ট্রাফিক নিয়মের প্রতি আনুগত্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন র‍্যাম্পে যানবাহনের ঢল এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন সিগনাল সিস্টেম, গাড়ি-সংখ্যা অনুযায়ী লেন ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনা রোধী ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হতে পারে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার চাপ কমানো, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সহজ করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করা। নতুন র‍্যাম্প সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতের অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হবে এবং শহরের সার্বিক অর্থনৈতিক গতিশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নগর অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি। ইতিমধ্যেই এটি রাজধানীর যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নতুন র‍্যাম্প সংযোগের পরিকল্পনা কার্যকর হলে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তের যাত্রা সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং রাজধানীর যানজট নিরসনে এটি আরও কার্যকর অবদান রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত