বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম নিলাম কার্যক্রমে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা: ডলার-টাকার হার নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৫ বার
সঞ্চয়পত্র ও পাঁচ সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। রোববার, বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে নিলাম প্রক্রিয়ায়, যা দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রফতানি আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা গত এক সপ্তাহে ডলারের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। ফলে টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার ক্রমশ নিচে নামছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নেয়, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো একটি সুগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে বাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করা হলো।

নিলামে প্রতি ডলারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১২১ টাকা ৫০ পয়সা, যা ঐ সময়কার অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রস্তাবিত ১২০ টাকার চেয়ে কিছুটা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তার ভাষায়, “আমরা চাই, ডলারের বিনিময় হার যেন অতিরিক্ত ওঠানামা না করে। বাজারে তারল্য বাড়লে আমরা ডলার কিনছি, আবার দরকার হলে আমরা একই প্রক্রিয়ায় ডলার বিক্রিও করবো।”

এ ধরনের বাজার হস্তক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। একজন শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, “এই উদ্যোগ বাজারে স্থিরতা আনবে। গত সপ্তাহে যেখানে প্রতি ডলারের দাম ১২৩ টাকার উপরে ছিল, সেখানে এখন তা কমে ১২০ টাকায় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের কারণে ডলার কিছুটা বাড়তে পারে, তবে তা নিয়ন্ত্রিত থাকবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ অর্থনীতির জন্য একদিকে যেমন স্থিতিশীলতা আনবে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের মুদ্রানীতির প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে। কেননা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে অসঙ্গতি ও আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক উভয় পক্ষই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকেন। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি স্বচ্ছ ও বাস্তবভিত্তিক কাঠামো তৈরি করাই সময়ের দাবি ছিল।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতেও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে নিলামের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। সেইসঙ্গে আরও কার্যকর নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ডলার ব্যবস্থাপনায় গতি আনা হবে।

বিশ্ববাজারে টাকার অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধরে রাখার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের রিজার্ভের পরিস্থিতি কিছুটা চাপের মধ্যে থাকায় এই ধরনের বাজার-ভিত্তিক হস্তক্ষেপ অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামগ্রিকভাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বৈদেশিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা। বাজার এখন পর্যবেক্ষণে আছে যে, এই নতুন কৌশল দীর্ঘমেয়াদে ডলার-টাকার বিনিময় হারে কী ধরনের প্রভাব ফেলে। তবে স্বল্পমেয়াদে এটি নিঃসন্দেহে একটি সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত