শীতের ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬২ বার
ঢাকার বাতাসে দূষণ বৃদ্ধি

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রতিবছর শীতকালে রাজধানী ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক হারে বেড়ে যায়, আর এ বছরের শীতও এর ব্যতিক্রম নয়। আবহাওয়ার শুষ্ক প্রকৃতি, যানবাহনের ধুলোময়ালি, শিল্পকারখানার ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের কারণে ঢাকার বাতাসে ক্ষতিকর কণা ও দূষণ উপাদান বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৮৬, যা শহরটিকে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে নিয়ে গেছে।

গত শুক্রবার ঢাকার স্কোর ছিল ২৬৭। একদিনে দূষণের এই বৃদ্ধি বিশেষজ্ঞদের কাছে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরের মধ্যে থাকা বায়ুদূষণকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ রোগীদের ঘরের ভেতর থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণ জনগণকেও বাড়ির বাইরে প্রয়োজন ছাড়া বের হতে সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ঢাকার সঙ্গে এই শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় মিশরের রাজধানী কায়রো প্রথম অবস্থানে রয়েছে, স্কোর ২৯৬। কলকাতা স্কোর ২৩৬ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে, যেখানে বায়ুদূষণের মাত্রাও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তালিকার চতুর্থ অবস্থানে নেপালের কাঠমন্ডু (১৮৩), পঞ্চমে বসনিয়ার সারাজেভো (১৮০), ষষ্ঠে চীনের উহান (১৭২), সপ্তমে ক্রোয়েশিয়ার জাগরেব (১৮৭), অষ্টমে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন (১৬৪), নবমে চীনের সাংহাই (১৬৪) এবং দশমে ভিয়েতনামের হো চিং মিন সিটি (১৬১) অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, এই শহরগুলোর স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ বা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছে।

একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ পর্যন্ত হলে সেটি ভালো, ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মাঝারি এবং ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। ঢাকার স্কোর ২৮৬-এ পৌঁছায়, যা নগরবাসীর জন্য সর্তকবার্তা বহন করে। ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরের মধ্যে থাকা বায়ু ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর বিপদ সংকেত দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় নাগরিকদের মুখে মাস্ক ব্যবহার, ঘরের জানালা বন্ধ রাখা এবং শ্বাসযন্ত্র সংক্রান্ত চিকিৎসা নিতে বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের বাইরে চলাচল সীমিত রাখা এবং শারীরিক পরিশ্রম কমানো আবশ্যক। বায়ুদূষণ কমাতে নাগরিকদের সচেতনতা, যানবাহনের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, যানজট কমানো, এবং শিল্প ধোঁয়া ও নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নীতিমালা গ্রহণ প্রয়োজন।

ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের সমস্যা শুধু শীতের নয়, বরং সারাবছর শহরের ক্রমবর্ধমান যানবাহন ও নির্মাণকাজ, ছোট ও বড় শিল্পখাতের ধোঁয়া, এবং খোলা জায়গার অভাবের কারণে দূষণের মাত্রা বিভিন্ন পর্যায়ে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব নীতিমালা ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক বায়ুমান সংস্থা আইকিউএয়ারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ঢাকায় যানবাহন, নির্মাণকাজের ধুলোময়ালি, শিল্পকাজ এবং কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে নিরীক্ষণ, নীতি প্রণয়ন ও জনসচেতনতার মাধ্যমে দূষণ কমানোর প্রচেষ্টা চলছে, তবে নগরবাসীর নিরাপদ বাতাসের জন্য তা যথেষ্ট নয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নগরবাসীকে বারবার সতর্ক করছেন, দূষণ বৃদ্ধির সময়ে বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখা, প্রয়োজনবোধে মাস্ক ব্যবহার এবং শিশু ও বৃদ্ধদের বাড়িতে রাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে হবে। বিশেষ করে যেসব মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদরোগ ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য বায়ুদূষণ মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকার এই দূষণ পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে না, বরং শিশু ও প্রবীণদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বিকাশ ও শ্বাসনালী সমস্যার সম্ভাবনাও বাড়াচ্ছে। তাই নগর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশবিদ ও নাগরিকদের যৌথ প্রচেষ্টা ছাড়া এই মেগাসিটিতে নিরাপদ বায়ু নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত