রাতের আঁধারে আগুনে ছাই দক্ষিণ আলেকান্দার ৭ দোকান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার
রাতের আঁধারে আগুনে ছাই দক্ষিণ আলেকান্দার ৭ দোকান

প্রকাশ: ২৪  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরিশাল মহানগরীর দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাতটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। প্রাথমিক হিসাবে এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার রাতের এই ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের আবহ তৈরি করেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে নগরের দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকার নূরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি খাবার হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা উঠতে দেখা গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে সাতটি দোকান পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দোকানগুলোর ভেতরে থাকা মালামাল, আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ আগুন লাগায় তারা কোনো প্রস্তুতির সুযোগ পাননি। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দোকান থেকে মালামাল বের করার মতো সময়ও ছিল না। অগ্নিকাণ্ডে সোহান ও শহিদের দুটি খাবার হোটেল, মাইনুল ও সাইদুলের দুটি চায়ের দোকান, ইসমাইলের একটি ফটোকপির দোকান, মাসুদের একটি মুদি দোকান এবং আসলামের দধি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এ ছাড়া একটি পাখির খাবার বিক্রির দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলম হোসেন বলেন, “রাত গভীর হওয়ায় বেশিরভাগ দোকান বন্ধ ছিল। হঠাৎ আগুনের শিখা দেখে আমরা দৌড়ে এসে পানি ও বালু দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। চোখের সামনে একের পর এক দোকান পুড়ে যেতে দেখে আমরা অসহায় হয়ে পড়ি।” তিনি আরও জানান, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী পিকনিক উপলক্ষে বরিশালের বাইরে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস বরিশাল স্টেশনের অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, আগুন লাগার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একটি খাবার হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব জানা যাবে।”

এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অনেকেই ছোট পরিসরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দোকান পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। একজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেন, দোকানটাই ছিল তার একমাত্র আয়ের উৎস। আগুনে সবকিছু হারিয়ে এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকার এই অংশে দোকানগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। অনেক দোকান কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া দোকানগুলোর বৈদ্যুতিক সংযোগ অনেকটাই পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর মতে, নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইনের তদারকি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব হতো।

এলাকাবাসী আরও জানান, শীতের মৌসুমে খাবার হোটেলগুলোতে রান্নার কাজ বেশি হওয়ায় আগুন লাগার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। কিন্তু অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা থাকে না। ফলে ছোট একটি দুর্ঘটনাই বড় বিপর্যয়ে রূপ নেয়।

বরিশাল মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে হলে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম, বৈদ্যুতিক লাইনের তদারকি এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

রাতের আঁধারে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ড দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকার মানুষের মনে আতঙ্কের পাশাপাশি গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, যথাযথ সহায়তা না পেলে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। অনেকেই সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, নগর জীবনে অগ্নিনিরাপত্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য অবহেলাই যে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে, বরিশালের এই অগ্নিকাণ্ড তারই এক করুণ উদাহরণ হয়ে রইল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত