আচরণবিধি লঙ্ঘনে সারজিস আলম ও নওশাদ জমির শোকজ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭২ বার
সারজিস আলম ও নওশাদ শোকজ

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চগড়-১ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন ১০ দলীয় জোটের শাপলা কলির প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।

শনিবার ২৪ জানুয়ারি বিকেলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা হিসেবে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারজিস আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মূল বিষয়গুলো উঠে এসেছে গত ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে। নোটিশে বলা হয়, ওই জনসভায় তিনি তাঁর নির্বাচনী জোটের প্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করেন। কিন্তু নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী কেবল নিজ দলের প্রধানের ছবি ও প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। নিজ দলীয় প্রধান ব্যতীত অন্য দলের প্রধানের ছবি ব্যবহার করে প্রচার চালানো সরাসরি আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।

এছাড়া নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে তিনটি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এই তোরণ নির্মাণ আচরণ বিধিমালার বিধি ১৩(ক) লঙ্ঘনের শামিল। শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। অথচ সারজিস আলম ফেসবুক আইডি দাখিল না করেই প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যা বিধি ১৬(ক) লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আরও বিস্তৃত। নোটিশে বলা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি বিকেল থেকে পঞ্চগড় পৌর এলাকায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে তার বা তার কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়ে।

নোটিশ অনুযায়ী, ১০ দলীয় জোটের নির্মিত তিনটি তোরণের মধ্যে দুটি অপসারণ করা হলেও পরবর্তীতে করতোয়া ব্রিজের দুই পাশে বিধি লঙ্ঘন করে স্থাপিত ফেস্টুন অপসারণের সময় নওশাদ জমিরের কর্মী-সমর্থকরা বাধা প্রদান করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এছাড়া অনুমোদিত ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি আকারের পরিবর্তে প্রায় ৬ ফুট বাই ৩ ফুট আকারের বড় ফেস্টুন ব্যবহারের অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফেসবুক আইডি দাখিল না করে প্রচারণা চালানো, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানো, গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েত করা এবং সরকারি গণভোটের প্রচারণার ব্যানার ছেঁড়ার হুমকি দেওয়া। এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচন আচরণ বিধিমালার ৭(গ), ৭(৬), ১৩, ১৫(গ) ও ১৬(ক) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার নোটিশে উভয় প্রার্থীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী মাঠে সব প্রার্থীর জন্য সমান নিয়ম প্রযোজ্য। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তা দল বা পরিচয় বিবেচনা না করেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, উভয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান প্রার্থীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যেও একটি বার্তা যাচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন আচরণবিধি বাস্তবায়নে আপসহীন ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিধিমালা নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে সহায়তা করে। পঞ্চগড়-১ আসনে শোকজ নোটিশের এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, নির্বাচনী প্রতিযোগিতা যতই উত্তপ্ত হোক না কেন, আইন ও বিধির ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আগামী দিনে প্রার্থীরা কী ব্যাখ্যা দেন এবং প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত