কার্ডের নামে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, ভোট কেনার কৌশল: নাহিদ ইসলাম

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৭ বার

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগকে সামনে রেখে ভোট কেনার কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এসব কার্ড মূলত মানুষের ভোট প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা, যার সঙ্গে বাস্তব উন্নয়ন বা কার্যকর বাস্তবায়ন কাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই।

শনিবার সকালে রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের নামে যেসব আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো নতুন কিছু নয়। মানুষ অতীতেও এমন বহু প্রতিশ্রুতি শুনেছে, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখেনি। সে কারণেই সাধারণ ভোটাররা এসব কথায় আর আগের মতো বিশ্বাস করছে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি প্রতিশ্রুতি দিলেই তা বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে যায় না। এখনকার মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা প্রশ্ন করে, কীভাবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে, এর অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, এর সময়সীমা কী। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থীরা কেবল আশ্বাস দিয়েই দায় সারতে চাইছেন। বাস্তবতার কোনো রূপরেখা তারা মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারছেন না।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি জোটের প্রার্থীরা নির্বাচনি আচরণবিধি মানছেন না। বিদ্যুতের তারে পোস্টার ঝোলানো, অনুমোদনহীন ব্যানার টানানোসহ একাধিকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালালেও সেখানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ব্যানার ছেঁড়ে ফেলা, প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর কারণে এনসিপির নেতাকর্মীদের নির্বাচন কমিশন শোকজ করেছে। অথচ একই সময়ে বিএনপি প্রার্থীরা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

১৬ বছর পর দেশে তুলনামূলকভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। মানুষ যেন নির্বিঘ্ন ও নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, সেটাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু একটি সংসদ নির্বাচন নয়, একই সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই মানুষ যাতে ভয় না পায়, সেজন্য সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

তবে বাস্তবে বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি তার নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে ভোটকেন্দ্র বিমুখ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ঢাকা-১১ আসনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি ও গ্যাস সংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এই মাদকের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, মাদক নির্মূল করতে হলে শুধু মাদক কারবারিদের ধরলেই হবে না, এর সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাও বন্ধ করতে হবে। এই দুই জায়গায় আঘাত করতে পারলেই প্রকৃত অর্থে মাদক সমস্যা সমাধান সম্ভব।

এনসিপি ক্ষমতায় এলে এই এলাকাকে মাদকমুক্ত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে পানি, গ্যাস ও নাগরিক সেবা সংকট সমাধানে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

তরুণ সমাজের ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচনে তরুণরা শুধু ভোট দিতে আসবে না। তারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবে এবং ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, সচেতন নাগরিকরা এবার আর নীরব দর্শক থাকবে না।

নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত দেখা যায় নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আপস করছে, তাহলে এনসিপি সর্বাত্মক আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। তিনি এটিকে আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিন নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের ভাটারা থানা এলাকা, বাঁশতলা, সুবাস্তু মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং একাধিক উঠান বৈঠকে অংশ নেন। প্রচারণাকালে তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগের মাত্রাও বাড়ছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এসব অভিযোগ ও পাল্টা অবস্থান ভোটের মাঠকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত