চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে জনসমুদ্রে রূপ নিল বিএনপির জনসভা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৮ বার
বিএনপির জনসভা

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠ রোববার সকালে রূপ নেয় বিশাল জনসমুদ্রে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাকে ঘিরে ভোর থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠের প্রতিটি অংশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক উত্তাপ আর নির্বাচনি প্রত্যাশায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রোববার সকাল ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভামঞ্চে উপস্থিত হবেন— এমন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় বাড়তি উদ্দীপনা। ভোরের আলো ফোটার আগেই চট্টগ্রাম মহানগরী ছাড়াও তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজার এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলে দলে পলোগ্রাউন্ডের দিকে রওনা হন। অনেকেই ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল সহকারে সভাস্থলে পৌঁছান।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের কদমতলী, টাইগারপাস, সিআরবি, কাজীর দেউড়ি ও লালখান বাজার এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে পুরো পরিবেশকে মুখর করে তোলেন। ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’ কিংবা ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক’— এমন নানা স্লোগানে প্রতিধ্বনিত হয় পলোগ্রাউন্ড ও আশপাশের সড়ক। দীর্ঘ পথ হেঁটে আসা অনেক নেতাকর্মীর চোখেমুখে ছিল ক্লান্তি, তবে তার চেয়েও বেশি ছিল রাজনৈতিক প্রত্যাশা আর পরিবর্তনের আশাবাদ।

নগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও কৃষক দলের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে সংগঠিতভাবে জনসভায় অংশ নেন। মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়ে তাঁরা শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। জনসমাবেশে শৃঙ্খলা রক্ষায় নগর বিএনপির নেতারা মাইকের মাধ্যমে বারবার দিকনির্দেশনা দেন।

সমাবেশস্থলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত হন। তাঁর সঙ্গে নগর ও জেলার শীর্ষ নেতারাও সভামঞ্চে অবস্থান নেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে জনসভায় যোগ দিয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতিতে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠের ভেতরে ও বাইরে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং র‌্যাব সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। সমাবেশ ঘিরে রেড জোন ও ইয়েলো জোন ঘোষণা করা হয়। সভামঞ্চে ওঠার জন্য দুটি নির্ধারিত ফটকে তল্লাশি ব্যবস্থা রাখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়। সিআরবি এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়, ফলে আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই যানজট ও ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

পলোগ্রাউন্ডের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কড়াকড়ি অবস্থান জনসভাকে ঘিরে বাড়তি গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সম্পন্ন করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। স্লোগান আর করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিমানবন্দর থেকে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা বাসে করে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ওঠেন। পথে পথে নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে পলোগ্রাউন্ড মাঠ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ জনসমাবেশের সাক্ষী। এবারের জনসভাও তার ব্যতিক্রম নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির জন্য এই সমাবেশকে শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দীর্ঘদিন পর বড় পরিসরে এমন জনসমাগম দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতারও একটি প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকেই।

মাঠে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন। কেউ কেউ বলছেন, তাঁরা পরিবর্তনের প্রত্যাশায় এখানে এসেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, প্রিয় দলের শীর্ষ নেতাকে এক নজর দেখার জন্যই তাঁদের এই দীর্ঘ যাত্রা। তরুণদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদের অনেকেই প্রথমবার ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান।

নির্বাচনের প্রাক্কালে এই জনসভা ঘিরে চট্টগ্রামে রাজনৈতিক আলোচনার পারদ চড়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে— এই জনসমাগম ভবিষ্যৎ নির্বাচনি সমীকরণে কী প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি কেবল একটি জনসভা নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই জনসভা নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জনসভা শুরু হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কী বার্তা আসে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত