বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ বার

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত এই নেতার আকস্মিক ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো হচ্ছে পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে হাসান মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. দিপীকা রায় এই ময়নাতদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাসান মোল্লা। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের গুরুতর ক্ষতির কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আবু হান্নান। সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাসান মোল্লার পেটের ডান পাশ দিয়ে গুলি প্রবেশ করে পেছনের দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। গুলির আঘাত ছাড়া তাঁর শরীরের অন্য কোনো স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, খুব কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করে গুলি করা হয়েছিল।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জের ঢালিকান্দি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান মোল্লা ওই সময় একটি ধর্মীয় মাহফিল থেকে হেঁটে নিজ বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও একজন ব্যক্তি ছিলেন। ঠিক বাড়ির পাশেই মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নিহতের ছোট ভাই রাকিব হোসেন মর্গে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবেই তাঁর ভাইকে টার্গেট করেছিল। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা বা ছিনতাই নয়। দুর্বৃত্তরা সরাসরি এসে গুলি করে পালিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কোনো ব্যক্তিগত শত্রু ছিল বলে আমাদের জানা নেই। রাজনৈতিক দিক থেকেও এলাকায় তাঁর বড় কোনো প্রতিপক্ষ ছিল না। বর্তমান রাজনীতিতে যারা সক্রিয় ছিল, সবাই একই প্যানেলের লোক। আর আওয়ামী লীগের যারা ছিল, তারা তো এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আছে। আমরা সত্যিই বুঝতে পারছি না, কারা কেন এমনটা করল।’

রাকিব হোসেন আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আজ দাফন সম্পন্ন করার পর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। তাঁরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তদন্ত করে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনবে।

হাসান মোল্লার মৃত্যুতে হযরতপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। দলীয় কার্যালয় ও স্থানীয় বাজার এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বলে মন্তব্য করছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীকে এভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসান মোল্লা এলাকায় পরিচিত ও সামাজিকভাবে সক্রিয় একজন ব্যক্তি ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক নানা অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যেত। তাঁর মৃত্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, রাতের বেলায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে এখন তারা উদ্বিগ্ন।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, এটি পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে সংঘটিত হয়েছে কিনা— সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের সহিংস ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে। তাঁরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা হয়।

সব মিলিয়ে কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লার গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এটি স্থানীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী এখন তাকিয়ে আছে তদন্তের অগ্রগতির দিকে। তারা আশা করছে, এই হত্যার পেছনের রহস্য দ্রুত উদঘাটিত হবে এবং অপরাধীরা আইনের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত