প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আবারও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে রাজনৈতিক সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত হবেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি, যেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রামসহ চার জেলায় ছয়টি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
সকাল থেকেই চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া জনসভায় যোগ দিতে তিনি পোলোগ্রাউন্ডে উপস্থিত হবেন। ইতিমধ্যে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও কৃষক দলের নেতাকর্মীরা পদযাত্রা করে সভাস্থলে জড়ো হচ্ছেন। মাঠের ভেতরে ও বাইরে স্বেচ্ছাসেবকরা সমাবেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান চট্টগ্রামে জনসভা শেষ করার পর বিকেলে ফেনীর সমাবেশে যোগ দেবেন। ফেনীর পাইলট স্কুল খেলার মাঠে বিকেল ৪টায় তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এরপর কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আরেকটি জনসভায় অংশ নেবেন। কুমিল্লার আরও দুটি নির্বাচনী জনসভায় যোগদানের পর ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জে একটি সমাবেশে তিনি উপস্থিত থাকবেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পর চট্টগ্রামে তারেক রহমানের উপস্থিতি দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। সমাবেশের প্রস্তুতি এবং অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ নির্বাচনের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। সমাবেশগুলোতে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার ব্যবহার করে বিএনপির লক্ষ্য ও প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পোলোগ্রাউন্ড ও আশপাশের রাস্তাগুলোতে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে, এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে মাঠের চারপাশে নজরদারি বাড়িয়েছে।
সমাবেশের সময় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যানের সরাসরি অংশগ্রহণ সমর্থকদের উদ্দীপনা বাড়াচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা পদযাত্রা ও মিছিলের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করছেন।
বৃহত্তর অর্থে এই জনসভাগুলো শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, এটি বিএনপি এবং তার নেতা তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক শক্তি ও সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সমাবেশগুলো দলের কর্মী-মহলকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সমাবেশগুলোতে অংশগ্রহণকারীরা আশা করছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী ইস্যুতে তারেক রহমানের বক্তব্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। দীর্ঘ ২০ বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রামে রাজনৈতিক সমাবেশে তার প্রত্যাবর্তন দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এক অদম্য উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।