প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হর্নমুক্ত ও নীরব পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা দিচ্ছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিমানবন্দর এলাকায় সমন্বিত অভিযান শেষে এ বিষয়ে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, শব্দদূষণ কমানো ও নীরব এলাকা গড়ে তোলা সম্পূর্ণভাবে জনগণ সচেতন হলে সম্ভব। বিমানবন্দরকে হর্নমুক্ত রাখার এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য শহরেও অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান আরও জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএর মাধ্যমে গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিমানবন্দর এলাকায় ৫০টি আধুনিক সাউন্ড লেভেল মিটার স্থাপন করা হয়েছে, যা শব্দদূষণ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধাপের মাধ্যমে শহরের নানান গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও নীরব ও হর্নমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “বিমানবন্দর এলাকায় হর্নমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। এটি কেবল যাত্রীদের জন্য নয়, এলাকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। সকলে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে এবং আইন-কানুন মেনে চললে, আমাদের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।”
সমন্বিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তিনি বলেন, বিমানবন্দর এলাকা হর্নমুক্ত রাখার মাধ্যমে নগরজুড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্তার করতে পারে, যা নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শহরের ট্রাফিক ও পরিবেশের জন্য নীরব এলাকা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দর ও তার আশপাশের এলাকা যাত্রী এবং স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত ও শব্দদূষণযুক্ত। এই উদ্যোগ তাদের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, সরকারের পরিকল্পনা শুধু বিমানবন্দরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তারা দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর ও জনবহুল এলাকায়ও হর্নমুক্ত এলাকা গড়ে তোলার চেষ্টা চালাবে। এজন্য ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, সচেতনতামূলক প্রচারণা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই, দেশের শহরগুলোকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ করা। বিমানবন্দর এলাকা হর্নমুক্ত রাখার মাধ্যমে আমরা শুরু করেছি। এর সাফল্য দেখলেই অন্যান্য এলাকা অনুকরণ করবে।”
এর আগে বিমানবন্দর এলাকায় সমন্বিত অভিযানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের হর্ন ও অতিরিক্ত শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। অভিযানের সময় গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকা বাসিন্দারা ইতিমধ্যে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হর্নমুক্ত ও নীরব এলাকা গড়ে তোলার ফলে শহরের মানসম্মত জীবনযাত্রা বৃদ্ধি পাবে। তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলমান শহরের শব্দদূষণজনিত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যায়।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় হর্নমুক্ত এলাকা গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও পাবলিক প্লেসেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।