আইসিসির দ্বিচারিতা: বাংলাদেশ বাদ, আফ্রিদি-গিলেস্পি ক্ষুব্ধ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫১ বার
আফ্রিদি গিলেস্পি ক্ষুব্ধ

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ অংশ নিতে পারবে না। বাংলাদেশ বাদ দেওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে স্কটল্যান্ড। আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে বিশ্ব ক্রিকেট মহলে দ্বিচারিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি ও অস্ট্রেলিয়ার জেসন গিলেস্পি এই সিদ্ধান্তের ওপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।

গত শনিবার আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের স্থলে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ এই ঘোষণার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ভক্ত আইসিসির ভারতপ্রীতির কারণে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়াকে অযৌক্তিক মনে করছেন।

শহীদ আফ্রিদি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া এক্স একাউন্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ও আইসিসি ইভেন্টে অংশ নেওয়া একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আমি হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ মেনে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই আবেদন মানতে অনাগ্রহী আইসিসি।’ আফ্রিদি আরও বলেন, বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখার জন্য সমান আচরণ ও ন্যায্যতা অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করেছেন, দ্বিচারী আচরণ ক্রিকেট বিশ্বে আস্থার স্থল হারাবে।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা জেসন গিলেস্পি আইসিসির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ কেন ভারতের বাইরে খেলতে পারবে না— এ নিয়ে আইসিসি কি কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে?’ ২০২৫ সালে ভারত-নিরপেক্ষ ভেন্যু দুবাইতে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তানকে কেন অনুরূপ সুযোগ দেওয়া হয় না। গিলেস্পি আরও বলেছেন, ‘এ ধরনের দ্বিচারিতা বোঝা কঠিন এবং ক্রিকেটের প্রতি ভক্তদের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।’

বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের সূচনাতেও পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের স্থলে স্কটল্যান্ড খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি, ইংল্যান্ড ও নেপালের বিপক্ষে। ম্যাচের দিন-তারিখ এবং ভেন্যু অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিপক্ষ পরিবর্তন হওয়ায় নতুন পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে।

আইসিসির এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগের ওপর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করলেও ভারতীয় নিরাপত্তাজনিত কারণে দলকে মাঠের বাইরে রাখা হয়। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সংস্থা হিসেবে আইসিসির নীতি ও ভারতপ্রীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বকাপ ২০২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে শুরু হবে। এর আগে আইসিসি বিভিন্ন আয়োজনের ক্ষেত্রে ভেন্যু নির্বাচনে রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয় বিবেচনা করে থাকে। তবে বাংলাদেশের বাদ পড়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ক্রিকেটের ন্যায্যতা এবং খেলোয়াড়দের অধিকার সংরক্ষণে আইসিসিকে সমান ও স্বচ্ছ আচরণ করতে হবে।

সাবেক তারকা আফ্রিদি ও গিলেস্পির পাশাপাশি অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্লেষকও বলেছেন, বাংলাদেশের মতো দেশের ক্রিকেটাররা বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রেখেছে। তাদের এমন আচরণের সঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া ন্যায্য নয়। এছাড়া ভক্তদের মনোবল ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের আস্থা বজায় রাখতে আইসিসি যাতে সমানভাবে সকল দেশের প্রতি ন্যায্য আচরণ করে তা গুরুত্বপূর্ণ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ভারতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেও ভবিষ্যতে আইসিসির নীতি কি আরও স্বচ্ছ হবে কি না। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইসিসি যদি এই দ্বিচারিতা অব্যাহত রাখে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নীতি, দর্শক আস্থা এবং খেলোয়াড়দের মর্যাদায় প্রভাব পড়বে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেয়নি। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা সামাজিক মাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এবং আইসিসির সমান আচরণের দাবি তুলছেন। বিশ্বকাপের নতুন সূচি অনুযায়ী স্কটল্যান্ড বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হয়ে খেলবে, কিন্তু বাংলাদেশ ভক্তরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে সমান সুযোগ প্রদান করা হবে এবং আইসিসি ন্যায্যতার সঙ্গে খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি দেবে।

অন্যান্য সংবাদ

  1. ভোটের প্রচার শুরুর তিন দিনেই সংঘর্ষ-লঙ্ঘনের হিড়িক, ইসির কঠোরতা
  2. নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত