প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সরকারের মতে, দিল্লিতে দেওয়া ওই বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের পতনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর উসকানি দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানীতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থি। এটি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।
অন্তর্বর্তী সরকার মনে করে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এ ধরনের বেপরোয়া ও উসকানিমূলক বক্তব্যই প্রমাণ করে কেন সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিনে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের ওপর বর্তাবে বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার অনুরোধ জানালেও ভারত এখনো সে দায়িত্ব পালন করেনি। বরং ভারতের ভূখণ্ডে তাকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সরকার জানায়, যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।