জয় ও পুতুলের সংস্থায় দানের তথ্য চেয়ে এনবিআরকে দুদকের চিঠি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৭ বার
জয় ও পুতুলের সংস্থায় দানের তথ্য চেয়ে এনবিআরকে দুদকের চিঠি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত দুই সংস্থা—সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের দান-অনুদান সংক্রান্ত নথি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার এনবিআর বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে দুদক উল্লেখ করেছে, এই দুই সংস্থায় দেশ-বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ ও অনুদানের উৎস, পরিমাণ এবং ব্যবহার নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। এনবিআরের কাছে চাওয়া নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংক ট্রান্সফার সংক্রান্ত তথ্য, অনুদান গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বিবরণ, দাতাদের পরিচয় এবং সম্ভাব্য কর ফাঁকির প্রমাণ।

দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, অভিযোগের অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এনবিআরকে জরুরি ভিত্তিতে এসব তথ্য সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ জরুরি হয়ে পড়েছে।”

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিআরআই ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং জয় নিজেও একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও কাঠামো ব্যবহার করে বিদেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন, যার অনেকটাই দেশের প্রচলিত কর ও হিসাব আইনের বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সূচনা ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের সিএসআর (কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের পরে সেটির যথাযথ ব্যবহার না করে আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, অনুসন্ধান কাজের জন্য দুদক ইতোমধ্যে উপপরিচালক মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করেছে। এই দলে রয়েছেন সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া, মুবাশ্বিরা আতিয়া তমা, এস এম রাশেদুল হাসান, এ কে এম মুর্তজা আলী সাগর, মনিরুল ইসলাম এবং উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

দুদক আরও জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে পুতুলের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩৩ কোটি টাকার অনুদান সংগ্রহ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদ অর্জনের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। এর আগেও, জানুয়ারি মাসে পূর্বাচলে জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে জয় ও পুতুলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অনুসন্ধান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনের এক গভীর প্রশ্নবোধক দাগ তৈরি করেছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের অর্থনৈতিক লেনদেন ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কেবল আইনগত নয়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমানে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পূর্বনির্ধারিত রায় দেওয়া না গেলেও, দুদকের সক্রিয়তা ও উদ্যোগ জনমনে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা জাগিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত