প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রাম দেশের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য ও ট্রানজিট বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম সিটির ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের গণসংযোগ শুরুর আগে নিমতলা খালপাড় ব্রিজসংলগ্ন সিএনজি স্টেশনের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। এই এলাকায় গণসংযোগের মাধ্যমে স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষকে উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
আমির খসরু বলেন, চট্টগ্রাম হবে একটি সমন্বিত লজিস্টিক হাব। সমুদ্রবন্দর, কর্ণফুলী নদী, পাহাড় এবং বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রানজিট ও ট্রেডিং পোস্ট গড়ে তোলা হবে। শুধু বাংলাদেশের নয়, আশেপাশের দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যও এই কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টকেও আঞ্চলিক হাব হিসেবে শক্তিশালী করা হবে। ম্যানুফ্যাকচারিং জোন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শিল্প ভিত্তি গড়ে তোলা হবে, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উজ্জীবিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে আলাদাভাবে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করার দরকার নেই। বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন হলে চট্টগ্রাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু হলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এবং সাধারণ জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। ভোটাররা আমির খসরুর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তিনি এলাকার বিভিন্ন সড়ক, খালপাড় ও স্থানীয় বাজার ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পরিকল্পনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশা সম্বন্ধে সরাসরি আলোচনা করা হয়েছে।
আমির খসরু আরও বলেন, “চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং কর্ণফুলী নদীর পরিবহন সুবিধাকে আরও দক্ষভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে গতি দেওয়া সম্ভব। আমরা চাই চট্টগ্রাম শুধু দেশের বাণিজ্যিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করুক। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং অর্থনীতির স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্ভব হবে।”
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় নেতারা জানান, স্থানীয় জনগণ সরকারের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন হচ্ছেন এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন ভোটারদের মধ্যে আস্থা ও সমর্থন বাড়াচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের গণসংযোগ কর্মসূচি শুধু নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নয়; বরং এটি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে প্রার্থীর সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি জনগণকে পরিকল্পনার আওতায় আনা নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিক হাব হিসেবে উন্নীত করার পরিকল্পনা শুধু শহরের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক দিককে শক্তিশালী করবে না, বরং দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সমন্বয় ও শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রও প্রসারিত হবে। সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও নদী পরিবহনকে একসাথে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, তিনি বলেন, শহরের শিল্প ও বাণিজ্যিক জোনগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় উৎপাদন খাত ও কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
গণসংযোগে অংশ নেওয়া ভোটাররা বলেন, তারা প্রার্থীর পরিকল্পনা ও ভিশন নিয়ে আশাবাদী এবং এই ধরনের পরিকল্পনা শহরের উন্নয়নকে নতুন মাত্রা দেবে। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা চট্টগ্রামের লজিস্টিক হাব পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি উপকৃত হবেন।
সাম্প্রতিক বছরের উন্নয়ন সূচক ও চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনা করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের অর্থনীতি দ্রুত সমৃদ্ধ হতে পারে। সমন্বিত বন্দর, নদী, বিমান ও শিল্প জোনের মাধ্যমে দেশের বাণিজ্যিক শক্তি আরও বিস্তৃত হবে।
সবমিলিয়ে, চট্টগ্রাম শহরের গণসংযোগ কর্মসূচি এবং প্রার্থীর ঘোষিত লজিস্টিক হাব পরিকল্পনা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা বহন করছে। শহরের জনগণ, ব্যবসায়ী ও যুবসমাজের জন্য এটি আশা এবং উন্নয়নের এক নতুন প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।