যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার
তুষারঝড়ে স্থবির যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক তুষারঝড় এবং শীতল আবহাওয়ার কারণে দেশটির পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলসহ ১৫টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার পর্যন্ত পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনগণকে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলমান বৈরি আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, সড়কযাত্রা স্থবির হয়েছে এবং ব্যাপক সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থাগুলো।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লুইসিয়ানায় হাইপোথার্মিয়ায় কমপক্ষে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। টেক্সাসে মারা গেছেন আরও একজন। নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি জানান, সপ্তাহান্তে পাঁচজন মারা গেছেন, যদিও তা শীতজনিত কারণে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর ফলে মোট মৃতের সংখ্যা এখন ১০ জনে পৌঁছেছে।

তুষারঝড়ের প্রভাবে ইলিনয়েস, ওহাইও, ইন্ডিয়ানা, কানসাস, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, মিসৌরি, ওকলাহোমা, টেক্সাস ও টেনেসিসসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের বেশিরভাগ অঞ্চল ঢেকে গেছে পুরু তুষারে। একই সঙ্গে ক্যারোলাইনাসহ মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলে তুষারপাতের পাশাপাশি বরফ ও বরফশীতল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শীতকালীন সতর্কতার আওতায় রয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষ।

বিমান পরিবহনও বড় ধরনের ব্যাহত হয়েছে। রোববারের জন্য নির্ধারিত ১১ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। তীব্র তুষারপাত এবং বাতাসের কারণে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রয়েছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৯ লাখেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে টেনিসিতে দুই লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক প্রভাবিত হয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধার সংস্থাগুলো ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তুষারঝড়ের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। এছাড়া দুর্ঘটনা বা জরুরি অবস্থার জন্য হাসপাতাল ও জরুরি সেবাগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরু তুষার এবং বরফশীতল বৃষ্টি জনজীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। সড়কে গাড়ি চলাচল সীমিত এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। স্কুল, কলেজ ও সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। জনগণকে বাড়িতে থাকার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে স্বেচ্ছাসেবী ও পুলিশ প্রশাসন বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালীন এমন তীব্র তুষারঝড় স্থানীয়ভাবে প্রচুর ক্ষতি করেছে। নগর ও শহরতলিতে চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, যানজট এবং জরুরি পরিষেবা প্রভাবিত হওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনেও ব্যাপক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় হাইপোথার্মিয়া ও শীতজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা আরও জানায়, তাপমাত্রা অনেক অঞ্চলে মাইনাসে নেমে যাচ্ছে, যা শীতের প্রভাবে মানবদেহের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ও শিশুদের জন্য এটি বিপজ্জনক। জনসাধারণকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বাড়িতে থাকা, তাপমাত্রা সঠিক রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া।

এ ধরনের বৈরি আবহাওয়ার কারণে সংস্থাগুলো এবং স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইতিমধ্যেই জরুরি পরিষেবা, হাসপাতাল এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তুষার ঝড়ের প্রভাবে বিঘ্নিত এলাকায় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীতকালীন এমন ভয়াবহ তুষারঝড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেশটির বিভিন্ন শহর ও রাজ্যে জনজীবনকে প্রভাবিত করেছে। চলমান পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত