‘হ্যাঁ’ ভোটে বিজয়ের ডাক, ‘না’ ভোটে পরাজয়: শফিকুর রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫১ বার
‘হ্যাঁ’ ভোটে বিজয়ের ডাক, ‘না’ ভোটে পরাজয়: শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত হবে, আর ‘না’ ভোট মানে হবে জাতির পরাজয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বললেও বাস্তবে তারা এতে আন্তরিক নয়। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় নয়, বরং পুরো জাতিকে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই রাজনীতি করছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি গণভোটকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত পুরো জাতির ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তার ভাষায়, ‘এই গণভোট কোনো দল বা ব্যক্তির প্রশ্ন নয়, এটি দেশের অস্তিত্ব, ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রশ্ন। যারা সত্যিকার অর্থে দেশের কল্যাণ চায়, তাদের সবাইকে স্পষ্টভাবে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।’

নারী সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, যেখানে মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মানের ওপর আঘাত আসবে, সেখানেই সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল মুখে নারীর ক্ষমতায়ন ও কল্যাণের কথা বললেও বাস্তবে তাদের কর্মীরা নির্বাচনী মাঠে নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত—এই দ্বিচারিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা নারীদের সম্মান দিতে পারে না, তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা সহজেই অনুমেয়।’

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী নারীকে করুণার বস্তু নয়, বরং সমাজের সমান অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়। নারীদের শুধু সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না রেখে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তার মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া প্রকৃত সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করাই হবে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণ সমাজ যদি সঠিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও নৈতিক দিকনির্দেশনা পায়, তাহলে তারাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট ও দখলবাজির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আপসহীন থাকবে বলে দৃঢ় অঙ্গীকার করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সংস্কারের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা—এই পাল্লায় কোনো কম-বেশি হবে না। ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রত্যেককে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’ তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নৈতিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা।

যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যশোর একটি ঐতিহাসিক জেলা। ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল প্রথম জেলা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধেও এটি প্রথম হানাদারমুক্ত জেলা হিসেবে পরিচিত। এই জেলার মানুষ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক সেবায় ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে না। তিনি বলেন, ‘যশোরের উন্নয়ন মানেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন। আমরা ক্ষমতায় গেলে এ অঞ্চলের অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেব।’

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো দলের স্বার্থ নয়, বরং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে অপরাধ কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করবে।

জুলাই বিপ্লবের চেতনায় দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের বাংলাদেশ।’ তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ভয় বা হতাশা নয়, বরং আদর্শ, নৈতিকতা ও সাহস নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের রাজনীতিতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গণভোট ও নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম তরুণদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন।

এ ছাড়া জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতারা। বক্তারা সবাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং পরবর্তী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষ হওয়ার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই এটিকে যশোরে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ জনসভা হিসেবে আখ্যা দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ও জনসমাগম আসন্ন গণভোট ও নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত