প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগে শিহাব (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর পৌরসভার নতুন তেতুলিয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত শিহাব একই গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম টেনার ছেলে।
ঘটনার সঙ্গে আরও দুই যুবক জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে, যারা ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছে এবং এখনো পলাতক। ভুক্তভোগী ছাত্রী স্থানীয় নতুন তেতুলিয়া মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ জুলাই দুপুরে মাদরাসা ছুটি হলে কিশোরীটি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। পথিমধ্যে শিহাব ও তার দুই সহযোগী মোটরসাইকেলে এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে তারা তাকে বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন একটি দোকানে নিয়ে গিয়ে খাবার কিনে দেয় এবং পরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
অভিযুক্তরা মেয়েটির গলায় কাঁচি ধরে ভয় দেখায় এবং কাউকে কিছু জানালে হত্যার হুমকি দেয়। মেয়েটি আতঙ্কিত হয়ে কিছু সময় চুপ থাকলেও শুক্রবার সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মাকে পুরো ঘটনা জানায়।
পরিবার প্রথমে স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে বিচার চাইলেও তারা সহযোগিতা না করে উল্টো পরিবারটিকে দোষারোপ করতে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং বাধ্য হয়ে মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা বিষয়টি পুলিশি তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে শনিবার রাতে মেয়েটির মা জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান, ঘটনার তদন্তে একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষা ও জবানবন্দি গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। পলাতক দুই সহযোগীকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বলেন, “আমার মেয়ের ওপর যারা এই অমানবিক কাজ করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। গ্রামের কিছু মানুষ আমাদের দোষারোপ করছে, যা আমাদের মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তুলছে।”
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এবং প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন অনেকেই।