ভিসা জটিলতা আর স্পন্সরহীনতায় বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৩ বার
ভিসা জটিলতা আর স্পন্সরহীনতায় বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড

প্রকাশ: ২৭  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শেষ মুহূর্তে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া স্কটল্যান্ডের জন্য আনন্দের খবরটি খুব দ্রুতই রূপ নিয়েছে চরম ব্যস্ততা ও উদ্বেগে। সময়ের স্বল্পতা, ভিসা জটিলতা, জার্সি প্রস্তুত না থাকা এবং বড় কোনো স্পন্সরের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রার আগে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখে পড়েছে ইউরোপের এই দলটি। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পেলেও প্রস্তুতির ঘাটতি ও প্রশাসনিক জটিলতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয় স্কটল্যান্ডকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শনিবার এই সিদ্ধান্ত জানায়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ফলে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী নয়—এমন দলগুলোর মধ্যে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা স্কটল্যান্ড সুযোগ পায়।

এই সুযোগ নিঃসন্দেহে স্কটিশ ক্রিকেটের জন্য ঐতিহাসিক। তবে প্রস্তুতির সময় না থাকায় সমস্যাও এসেছে একের পর এক। ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তার কাছ থেকে গত সপ্তাহান্তে ফোন পাওয়ার পর থেকেই স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট প্রশাসন কার্যত দিন–রাত কাজ করে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে ভিসা জটিলতা। স্কটল্যান্ড দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের ভিসা প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। বিশেষ করে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পেসার সাফিয়ান শরিফসহ কিছু ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে দ্রুত ভিসা না হলে ভারত যাত্রা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তবে এসব জটিলতার মধ্যেও আশাবাদী লিন্ডব্লেড। তিনি মনে করছেন, ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা শেষ পর্যন্ত দলের ভারত যাত্রায় বড় কোনো বিলম্ব ঘটাবে না।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রুডি লিন্ডব্লেড বলেন, আমন্ত্রণটি পাওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত, কিন্তু বাস্তবতা হলো সময় খুবই কম। তাঁর ভাষায়, “পরিস্থিতিটা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ও চ্যালেঞ্জিং। তবে আমরা এখনো আত্মবিশ্বাসী যে সব খেলোয়াড়কে সময়মতো সেখানে পাঠাতে পারব।” তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করা যায়।

ভিসা সমস্যার পাশাপাশি আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের জার্সি ও স্পন্সর। সাধারণত বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের জন্য আলাদা জার্সি প্রস্তুত করা হয়, যেখানে টুর্নামেন্টের লোগো, রং ও স্পন্সরের নাম থাকে। কিন্তু স্কটল্যান্ডের ক্ষেত্রে এখনো বিশ্বকাপের জন্য কোনো জার্সি তৈরি হয়নি। সময়ের অভাবে আদৌ নতুন জার্সি তৈরি করা সম্ভব হবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত।

লিন্ডব্লেড জানিয়েছেন, নতুন কিট হাতে পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সেটি সম্ভব না হলে নিয়মিত ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের জার্সিতেই বিশ্বকাপে মাঠে নামতে পারে দলটি। তাঁর ভাষায়, “নতুন কিট পেলে ভালো, না পেলেও আমাদের পরিচিত জার্সিতেই খেলতে দেখা যেতে পারে।” এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, প্রস্তুতির সময় কতটা সীমিত।

স্পন্সর সংকটও স্কটল্যান্ডের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। বিশ্বকাপের মতো আসরে অংশগ্রহণ মানে বাড়তি খরচ—ভ্রমণ, আবাসন, লজিস্টিক সাপোর্ট, বিপণন ও মিডিয়া ব্যবস্থাপনা সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন অর্থ। অথচ এই মুহূর্তে স্কটল্যান্ডের কোনো বড় জার্সি-স্পন্সর নেই। লিন্ডব্লেড জানান, হাতে আছে মাত্র সাত দিন, এই সময়ের মধ্যেই একজন বড় স্পন্সর যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। যদিও সময় কম, তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে স্কটল্যান্ডের উপস্থিতি সম্ভাব্য স্পন্সরদের আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড মূলত বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত সূচিই পেয়েছে। এর ফলে দলটির সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনেই কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্কটল্যান্ড। অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন বড় মঞ্চে খেলা মানসিক ও শারীরিকভাবে দলের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

তবে লিন্ডব্লেড আপাতত এই ম্যাচ পিছিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না। তিনি বলেন, “যদি কোনো কারণে আমরা উদ্বিগ্ন হই, তাহলে অবশ্যই আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প কী আছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।” অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত আইসিসির সহযোগিতার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, স্কটল্যান্ডের এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উদীয়মান দলগুলোর বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে। বড় দলগুলো যেখানে দীর্ঘ পরিকল্পনা ও বিপুল অর্থের জোরে বিশ্বকাপে নামে, সেখানে অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলো শেষ মুহূর্তে সুযোগ পেলে নানা কাঠামোগত সমস্যায় পড়ে। তবু স্কটল্যান্ডের জন্য এই বিশ্বকাপ একটি বড় সুযোগ—নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি বাড়ানোর এবং ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণের।

খেলোয়াড়দের মনোবল নিয়েও আশাবাদী স্কটিশ বোর্ড। জানা গেছে, আকস্মিক এই সুযোগ পেয়ে খেলোয়াড়রা রোমাঞ্চিত। সীমিত প্রস্তুতি হলেও তারা এটিকে জীবনের সেরা সুযোগ হিসেবে দেখছেন। কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্ট চেষ্টা করছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই মানসিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে।

সব মিলিয়ে, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের যাত্রা শুরু হচ্ছে নানা অনিশ্চয়তা আর চ্যালেঞ্জ নিয়ে। ভিসা জটিলতা, জার্সি ও স্পন্সরের অভাব—সবকিছু সত্ত্বেও তারা মাঠে নামতে চায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে। বিশ্বকাপের মঞ্চে স্কটল্যান্ড কতটা লড়াই করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে একটি ব্যাপার নিশ্চিত—এই বিশ্বকাপ স্কটিশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত