ইরান চুক্তি চায়, বারবার ফোন করেছে: ট্রাম্প

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার
ইরান চুক্তি চায়, বারবার ফোন করেছে: ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৭  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ‘বড় নৌবহর’ পাঠানোর পর অঞ্চলটির পরিস্থিতি এখনো ‘অনিশ্চিত’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী এবং তেহরান থেকে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে।

ট্রাম্পের এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘বিশাল নৌবহর’ মোতায়েন রয়েছে, যা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তাঁর ভাষায়, “ইরানের কাছাকাছি আমাদের একটি বিশাল নৌবহর রয়েছে। এটি ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড়।”

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প একদিকে যেমন সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে তেমনি কূটনৈতিক দরজাও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায়। আমি তা-ই জানি। তারা বহুবার ফোন করেছে। তারা কথা বলতে চায়।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনার মাঝেও যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

তবে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে ট্রাম্প বরাবরের মতোই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দল তাঁকে কোন কোন বিকল্প প্রস্তাব করেছে বা তিনি নিজে কোন পথে এগোতে আগ্রহী—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কৌশলগত নীরবতা, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান শক্ত রাখতে চাইছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর খবর সামনে আসার পর ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, বিদেশি যুদ্ধজাহাজের আগমন তেহরানের প্রতিরক্ষা অবস্থান বা কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা কখনো যুদ্ধকে স্বাগত জানাইনি, আবার কূটনীতি ও আলোচনার পথ থেকেও কখনো সরে আসিনি। এসব আমরা বাস্তবে দেখিয়েছি।” তাঁর এই বক্তব্যে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত হয়েছে—একদিকে সামরিক আগ্রাসনের বিরোধিতা, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আগ্রহ।

বাঘাই আরও বলেন, ইরানের জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতে দেশ রক্ষার পূর্ণ ইচ্ছা ও সক্ষমতা রয়েছে। তাঁর মতে, বিদেশি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা জাতীয় দৃঢ়তাকে কোনোভাবেই দুর্বল করতে পারবে না। বরং এমন পরিস্থিতিতে দেশটির জনগণ আরও ঐক্যবদ্ধ হয়।

এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে এবং ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি শুধু একটি প্রতীকী উপস্থিতি নয়; বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি পদক্ষেপ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহনকারী একটি জাহাজ ইসরাইলের দিকে যাত্রা করছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি ‘থাড’ (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে দ্বৈত বার্তা স্পষ্ট। একদিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি, অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আসন্ন নির্বাচন ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক ভারসাম্য—সবকিছুই এই অবস্থানের সঙ্গে জড়িত।

অন্যদিকে, ইরানও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একদিকে শক্ত প্রতিরক্ষা অবস্থানের কথা বলা, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা দেওয়া। এতে করে উভয় পক্ষই সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তির এমন সমাবেশ যে কোনো সময় পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও এখনো সরাসরি সংঘাতের ইঙ্গিত মেলেনি। বরং ট্রাম্পের ‘ফোন কল’ সংক্রান্ত মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, পর্দার আড়ালে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সামরিক শক্তি প্রদর্শন, কূটনৈতিক বার্তা ও রাজনৈতিক হিসাব—সবকিছু মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত