ভৈরবে বগি লাইনচ্যুত, বন্ধ ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট ট্রেন চলাচল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৯ বার
ভৈরবে বগি লাইনচ্যুত, বন্ধ ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট ট্রেন চলাচল

প্রকাশ:  ২৭  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশনে ভয়াবহ এক রেল দুর্ঘটনার কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার গভীর রাতে ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যাত্রী।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) ট্রেনটি। নিয়মিত যাত্রাপথ অনুসরণ করে রাত ২টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি ভৈরব বাজার জংশনে পৌঁছায়। যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি পুনরায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। তবে স্টেশন থেকে মাত্র প্রায় ১৫০ মিটার দূরে জয়েন্ট লাইনের ওপর পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেনটির ইঞ্জিন থেকে চার নম্বর বগি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, বগি লাইনচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী এবং উল্টো দিকের ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে।

স্টেশন মাস্টার আরও জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। লাইনচ্যুত বগিটি সরিয়ে রেললাইন স্বাভাবিক করতে বিশেষজ্ঞ কর্মীরা কাজ করছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই রেললাইন মেরামত করে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে গভীর রাতে দুর্ঘটনা ঘটায় অনেক যাত্রী ট্রেনের ভেতরেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলেন। কেউ কেউ স্টেশনে নেমে পড়েন, আবার অনেকে বিকল্প পরিবহনের খোঁজে ছুটে যান। এতে ভৈরব বাজার জংশন এলাকায় ভোর থেকেই যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রুট দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত রেলপথগুলোর একটি। প্রতিদিন এই রুটে আন্তনগর ও মেইল ট্রেনসহ বহু যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে এই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যাত্রীদের যাত্রাসূচিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জয়েন্ট লাইনের ত্রুটি অথবা কারিগরি সমস্যার কারণেই বগিটি লাইনচ্যুত হতে পারে। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা হবে।

রেলপথে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ত্রুটি, পুরোনো অবকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের অভাবই এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। ব্যস্ত রুটগুলোতে রেললাইন ও সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন তারা।

ভৈরব বাজার জংশন কেবল একটি রেলস্টেশন নয়, এটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে এখানে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব পড়ে বিস্তৃত অঞ্চলে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই আশপাশের স্টেশনগুলোতে আটকে পড়া ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও অসন্তোষ দেখা যায়। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। তবে কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভৈরবে ঢাকা মেইল-২ ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেলেও দেশের ব্যস্ত রেলপথে আবারও নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত