মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা: সজিব ও রাজীব ৫ দিনের রিমান্ডে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ১৩৪ বার
মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা: সজিব ও রাজীব ৫ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংসভাবে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি সজিব বেপারী ও রাজীব বেপারীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সজিব ও রাজীবকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে শুনানিকালে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আদালত উভয় আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত বুধবার (১০ জুলাই) ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে সোহাগকে নির্মমভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একত্রে সোহাগের ওপর বর্বর হামলা চালাচ্ছে, যার পরিণতিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সোহাগ হত্যার পরদিনই নিহতের পরিবার কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় সরাসরি জড়িত ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায় তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল হোতারা পলাতক ছিল। রোববার রাতে সজিব ও রাজীবকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার আদালতে তোলা হয়।

সরকার ইতোমধ্যেই এ হত্যাকাণ্ডকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে মামলাটি নিষ্পত্তির ঘোষণা দিয়েছে। আইনমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, “এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করতে চাই।”

পুলিশ বলছে, ব্যবসায়িক দখলদারিত্ব ও পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল কললিস্ট ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপরাধে আরও যারা জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোহাগ হত্যাকাণ্ডে রাজধানীবাসীর মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভরদুপুরে জনবহুল এলাকায় এমন নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড এবং তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত সোহাগের পরিবার বলছে, তারা সর্বোচ্চ শাস্তি চান এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মামলার তদন্তে অগ্রগতি সাপেক্ষে আরও গ্রেপ্তার ও রিমান্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত