পিএসএলের নতুন অধ্যায়ে হায়দরাবাদের কোচ জেসন গিলেস্পি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৮ বার
পিএসএলের নতুন অধ্যায়ে হায়দরাবাদের কোচ জেসন গিলেস্পি

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তান সুপার লিগের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো আট দল নিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। নতুন করে যুক্ত হওয়া দুটি দলের একটি হায়দরাবাদ, যার নাম ও লোগো এখনো চূড়ান্ত না হলেও দলটির কোচিং স্টাফ নিয়ে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার জেসন গিলেস্পি। সবকিছু ঠিক থাকলে পিএসএলের ১১তম আসরে হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি। আগামী ২৬ মার্চ শুরু হতে যাওয়া এই আসরের আগে গিলেস্পির নিয়োগকে ঘিরে ক্রিকেট মহলে ইতোমধ্যেই আলোচনা তুঙ্গে।

পিএসএলে হায়দরাবাদ ও শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে লিগের পরিসর যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রতিযোগিতাও আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন দল মানেই নতুন দর্শক, নতুন পরিকল্পনা এবং আলাদা এক চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হায়দরাবাদ যে অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক মানের একজন কোচকে বেছে নিচ্ছে, তা তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। জেসন গিলেস্পি নামটি শুধু অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসেই নয়, আধুনিক ক্রিকেট কোচিং জগতেও বেশ পরিচিত।

৫০ বছর বয়সী এই সাবেক পেসার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭১টি টেস্ট ও ৯৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২৫৯টি উইকেট, যার মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০০৬ সালে করা ২০১ রানের সেই ঐতিহাসিক ইনিংস ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে আছে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার পর কোচ হিসেবেই নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন গিলেস্পি। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে আধুনিক ও কৌশলী কোচ হিসেবে পরিচিত করেছে।

পাকিস্তানের ক্রিকেটের সঙ্গে গিলেস্পির সম্পর্কও নতুন নয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাঁকে পাকিস্তান জাতীয় দলের লাল বলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সেই সময় ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পান দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্যারি কারস্টেন। পাকিস্তান ক্রিকেটে তখন এক ধরনের রূপান্তর চলছিল, যেখানে বিদেশি কোচদের মাধ্যমে কাঠামোগত পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। গিলেস্পির নিয়োগকে সে সময় অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিলেন, বিশেষ করে তরুণ পেসারদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আশা করা হয়েছিল।

কিন্তু সেই অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একই বছরের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে হঠাৎ করেই পদত্যাগ করেন গিলেস্পি। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতার অভাব এবং দলের ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়হীনতাই তাঁর সরে দাঁড়ানোর মূল কারণ। যদিও গিলেস্পি নিজে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি, তবে এই অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারে একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।

সেই অভিজ্ঞতার পর গিলেস্পির পিএসএলে ফেরা অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় দলের দায়িত্বের চাপ ও জটিলতা থেকে সরে এসে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কাজ করা কোচদের জন্য তুলনামূলকভাবে স্বাধীন ও সৃজনশীল সুযোগ এনে দেয়। হায়দরাবাদের মতো নতুন একটি দলের ক্ষেত্রে এই স্বাধীনতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দল গঠন, খেলোয়াড় নির্বাচন, কৌশল নির্ধারণ—সবকিছুই শুরু থেকে সাজানোর সুযোগ পাবেন গিলেস্পি।

হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা পেয়েছেন ব্যবসায়ী ফাওয়াদ সারওয়ার। নিলামে ১৭৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি, যা প্রায় ৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান, দর হাঁকিয়ে তিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব অর্জন করেন। এই বিনিয়োগই ইঙ্গিত দিচ্ছে, নতুন দলটি পিএসএলে শুধু অংশগ্রহণের জন্য নয়, বরং শক্ত অবস্থান তৈরি করতেই মাঠে নামতে চায়। একজন অভিজ্ঞ প্রধান কোচ হিসেবে গিলেস্পির নিয়োগ সেই লক্ষ্য পূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিএসএল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ১১তম আসরের প্লেয়ার অকশনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই অকশন, যা টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই উপলক্ষে আয়োজিত সেশনটির সভাপতিত্ব করেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। সেখানে পিএসএল সিইও সালমান নাসিরসহ আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় ছিল বেস প্রাইস নির্ধারণ, দলীয় বাজেট, স্কোয়াডের আকারের সীমা, খেলোয়াড় ধরে রাখা এবং সরাসরি সাইনিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

এই অকশনে হায়দরাবাদের ভূমিকা নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। নতুন দল হিসেবে তাদের স্কোয়াড পুরোপুরি নতুন করে গড়তে হবে। কোন বিদেশি তারকাদের দিকে তারা ঝুঁকবে, কোন স্থানীয় প্রতিভাদের সুযোগ দেবে—এসব সিদ্ধান্তে গিলেস্পির প্রভাব যে বড় হবে, তা বলাই বাহুল্য। তাঁর কোচিং দর্শনে সাধারণত তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, পাশাপাশি অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের নেতৃত্বের ওপরও তিনি ভরসা রাখেন।

পিএসএল মানেই পাকিস্তানের ক্রিকেট সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই লিগ শুধু বিনোদন নয়, জাতীয় দলের জন্য প্রতিভা তুলে আনারও বড় মঞ্চ। নতুন দল যুক্ত হওয়ায় সেই সুযোগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। হায়দরাবাদ যদি গিলেস্পির নেতৃত্বে একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তুলতে পারে, তাহলে পিএসএলের সামগ্রিক মান ও আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সব মিলিয়ে, জেসন গিলেস্পির হায়দরাবাদের প্রধান কোচ হওয়ার বিষয়টি শুধু একটি নিয়োগের খবর নয়, বরং পিএসএলের নতুন অধ্যায়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। মাঠে তাঁর কৌশল, ডাগআউটে তাঁর উপস্থিতি এবং তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে তাঁর কাজ কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। মার্চে মাঠে গড়ানো পিএসএলে হায়দরাবাদের যাত্রা যে শুরু থেকেই আলাদা নজর কাড়বে, তা বলাই যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত