নির্বাচন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়: রিজওয়ানা হাসান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৬ বার
নির্বাচন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়: রিজওয়ানা হাসান

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কোনো মতামত দেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশের নির্বাচন কীভাবে হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো চাইলে নিজেদের মতো করে বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারে। এটি তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়। কিন্তু সেই বিশ্লেষণ থেকে কোনো ধরনের মতামত বা নির্দেশনা বাংলাদেশকে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, “এটি আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ বা মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বহিরাগত চাপ, প্রভাব বা হস্তক্ষেপ সরকার মেনে নেবে না। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।

নির্বাচন নিয়ে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক আগ্রহ প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অর্থনীতি, ভূরাজনীতি ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে অনেক দেশই বাংলাদেশের দিকে নজর রাখছে। তবে এই আগ্রহ কখনোই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা কারও অনুমতি নিয়ে নির্বাচন করব না। আমাদের নির্বাচন আমরা নিজেরাই করব, আমাদের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী।”

এ সময় তিনি নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য অস্থিরতা ও সহিংসতার বিষয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার যে কোনো অপচেষ্টা সরকার কঠোর হাতে দমন করবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ যদি ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, তবে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।”

তিনি জানান, সরকারের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে বোঝা যায় যে দেশে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটতে যাচ্ছে। তবে কিছু রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর আচরণে সীমালঙ্ঘনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা গণতন্ত্রের অংশ, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যেন সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলায় রূপ না নেয়, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনকে ঘিরে সুপরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের উদ্দেশ্য হলো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, কিন্তু সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ায় বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়, তাহলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশ, র‍্যাব ও অন্যান্য বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চাই নির্বাচন হোক উৎসবমুখর পরিবেশে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী দায়িত্বশীল আচরণ করলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি আবারও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই শ্রদ্ধার অর্থ এই নয় যে, একটি দেশ আরেক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে। বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তবে তা হবে সমতার ভিত্তিতে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বহু বছরের সংগ্রামের ফল। এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বা দুর্বল করার যে কোনো চেষ্টা সরকার ও জনগণ একসঙ্গে প্রতিহত করবে। তিনি মনে করেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু সরকার বা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচনকালীন সময়কে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রশাসনিকভাবে কোনো শূন্যতা নেই এবং ভবিষ্যতেও তা তৈরি হতে দেওয়া হবে না। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, বাংলাদেশের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেই হবে। আমাদের গণতন্ত্রকে আমরা নিজেরাই রক্ষা করব।” তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পরিষ্কারভাবে উঠে আসে সরকারের অবস্থান—নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এবং সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশেরই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত