প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তাপ বাড়ছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ‘দেশপ্রেমিক শক্তির হাতে’ তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী ডা. আমেনা বেগম। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে এমন শক্তিকেই নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব দিতে হবে, যাদের হাতে দেশ ও মানুষ নিরাপদ থাকবে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত আয়োজিত এক মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. আমেনা বেগম। বিপুলসংখ্যক নারী নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ এবং নারীদের নিরাপত্তা ইস্যুতে নানা মন্তব্য করেন।
ডা. আমেনা বেগম বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে বহুবার মানুষ প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে, কিন্তু বারবারই তারা হতাশ হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদল হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। এই বাস্তবতায় তিনি বলেন, “যাদের হাতে দেশ নিরাপদ, যারা দেশপ্রেমকে রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে রাখে, সেই দেশপ্রেমিক শক্তিকেই ভোট দেওয়ার জন্য আমি দেশের নারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, একটি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে নারীদের সচেতন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোট শুধু একটি রাজনৈতিক অধিকার নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার একটি হাতিয়ার। এ কারণেই তিনি নারীদের আবেগ নয়, বিবেক ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা। তিনি বলেন, “আমরা এক স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত হয়ে আরেক স্বৈরাচারের হাতে বন্দি হতে চাই না।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত নারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমর্থন লক্ষ্য করা যায়।
নুরুন্নেসা সিদ্দীকা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগেই যদি নারীদের ওপর নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে, তবে ভোটের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “যারা নির্বাচনের আগে নারীদের গায়ে হাত তুলছে, ভোটের পরও নারীরা তাদের কাছে নিরাপদ থাকবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
তিনি আরও বলেন, নারীর নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না; রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নৈতিকতা না থাকলে কোনো ব্যবস্থাই কার্যকর হয় না। এ সময় তিনি ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দেন।
কারচুপি ও প্রশাসনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে নুরুন্নেসা সিদ্দীকা কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “যদি কারচুপি করে বা প্রশাসনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ভোটে জালিয়াতি করা হয়, তাহলে তার পরিণতি হবে হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ।” তাঁর এই বক্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত নারীদের মধ্যে উত্তেজনা ও করতালির ঝড় ওঠে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জনগণ, বিশেষ করে নারীরা, নিজেদের ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
ডা. আমেনা বেগম তাঁর বক্তব্যে নারীদের সামাজিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তরেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই নারীদের সিদ্ধান্তই পারে একটি দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। তিনি দাবি করেন, দেশপ্রেমিক শক্তির শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে নারীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার আরও সুসংহত হবে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেক নারী নেত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজনীতিতে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে হতাশ। তাদের মতে, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নের রাজনীতি দরকার। এই জায়গায় তারা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে তাকিয়ে আছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে এমন সমাবেশ ও বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করছে। দেশের মোট ভোটারের বড় একটি অংশ নারী হওয়ায় তাদের মনোভাব ও সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটি সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে উপস্থাপন করা হয়েছে।