প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ভোটারদের শঙ্কা, সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি ফুয়াদের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪০ বার
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ভোটারদের শঙ্কা, সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি ফুয়াদের

প্রকাশ: ২৯  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ১০ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ)। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী মাঠে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বায়লাখালী মাস্টার বাড়িতে ঈগল প্রতীকের এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় ভোটার, দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ সভায় ফুয়াদ সরাসরি নির্বাচনী পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটাধিকার রক্ষার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জনগণের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের আচরণ ও ভূমিকা অনেক সময় সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে, যা ভোটারদের আস্থা নষ্ট করছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের মতো যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো একটি রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে কাজ করে, তাহলে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ভোটারদের মধ্যে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি আসনের নয়, বরং পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। ফুয়াদের মতে, জনগণ এখন এমন একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করে যেখানে তারা ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে।

নির্বাচনী প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তার নেতাকর্মীদের ওপর একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অস্বাভাবিক দেরি করেছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে শক্তি প্রয়োগ ও নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু একটি দলের বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেয়।

তিনি আরও বলেন, বরিশাল-৩ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু প্রতিবারই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাবে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এবার জনগণ পরিবর্তন চায়, তারা এমন নেতৃত্ব চায় যারা মানুষের কথা বলবে, মানুষের অধিকার রক্ষা করবে এবং দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের মধ্যে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা দূর করার দায়িত্ব প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমীর অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার আগে প্রয়োজন আস্থার পরিবেশ। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ থাকে এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে, তাহলে নির্বাচন নিয়ে যে সন্দেহ ও ভয় রয়েছে, তা অনেকাংশে দূর হবে।

এছাড়া জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজুর রহমান অলিদ, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন খায়ের, মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় নেতা বক্তব্য রাখেন। তারা সবাই একমত পোষণ করে বলেন, ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসনের ভূমিকা হতে হবে স্বচ্ছ ও প্রশ্নাতীত।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহী হলেও নিরাপত্তা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তারা চিন্তিত। তাদের মতে, যদি সত্যিই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ভয়কে জয় করে ভোটকেন্দ্রে আসাই হচ্ছে গণতন্ত্র রক্ষার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীল আচরণই পারে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে।

এই নির্বাচনী উঠান বৈঠক শুধু একটি প্রচারণামূলক সভা নয়, বরং এটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা উদ্বেগ, প্রত্যাশা ও দাবি প্রকাশের একটি মঞ্চে পরিণত হয়। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা আগামী দিনে কীভাবে সমাধান হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বরিশাল-৩ আসনের ভোটাররা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত