জয় এলে কৃষকের ঋণমুক্তি, পদ্মা ব্যারেজের প্রতিশ্রুতি তারেকের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ বার
জয় এলে কৃষকের ঋণমুক্তি, পদ্মা ব্যারেজের প্রতিশ্রুতি তারেকের

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কৃষি ও কৃষককেন্দ্রিক একগুচ্ছ বড় প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকদের জন্য সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে দেওয়া এই বক্তব্যে উত্তরবঙ্গের কৃষকদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দেন, দেশের কৃষিকে পুনরুজ্জীবিত করাই হবে বিএনপির সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের কৃষকরা অবহেলিত। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু ন্যায্য দাম পাওয়া যায়নি। তার ওপর ঋণের বোঝা কৃষকদের আরও দুর্বিষহ অবস্থায় ফেলেছে। এই বাস্তবতা থেকেই কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষকের হাসিই হবে বাংলাদেশের অগ্রগতির আসল সূচক।

জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান রাজশাহীর ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজশাহী শুধু আমের রাজধানী নয়, এটি উত্তরবঙ্গের কৃষির প্রাণকেন্দ্র। অথচ এই অঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনাকে গত দেড় দশকে পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। এই ব্যারেজ শুধু সেচ সুবিধা বাড়াবে না, বরং উত্তরাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও শিল্প খাতের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে দাবি করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। সেই কর্মসূচি ছিল কৃষি ও সেচব্যবস্থার জন্য এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বিশাল সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীকেন্দ্রিক যে বিশাল সেচ প্রকল্পের নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা, সেটিকে পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি আজ প্রায় অচল অবস্থায় পৌঁছেছে।

তারেক রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই ঐতিহাসিক সেচ প্রকল্প আবার পূর্ণ শক্তিতে সচল করা হবে। শুধু রাজশাহীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এই সেচ ব্যবস্থার সুফল পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, উত্তরবঙ্গের প্রতিটি মাঠে যদি সেচের পানি পৌঁছায়, তাহলে উৎপাদন বাড়বে, কৃষকের আয় বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ হিসেবে তারেক রহমান ঘোষণা দেন, দেশের সব কৃষকদের একটি করে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষিঋণ, সার, বীজসহ সব ধরনের কৃষি উপকরণ সহজে কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষক সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও কারিগরি শিক্ষার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হবে, অন্যদিকে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। কৃষিনির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠায় সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর মতে, কৃষিকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলেই গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

জনসভায় তারেক রহমানের বক্তব্যে অতীত ও ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন স্পষ্ট ছিল। তিনি বারবার উল্লেখ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে কৃষি ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত। কৃষকের জন্য ভর্তুকি, সেচ সুবিধা, উন্নত বীজ ও সার সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নীতিগুলোকেই আধুনিক ও বাস্তবসম্মতভাবে আবার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এই জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মিজানুর রহমান মিনু, হারুন উর-রশীদ, অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আবু সাইদ চাঁদসহ আরও অনেকে। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি তারেক রহমান ঘোষিত কৃষিবান্ধব কর্মসূচির প্রশংসা করেন।

সমাবেশে উপস্থিত কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তারেক রহমানের ঘোষণাগুলো নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। অনেক কৃষক বলেন, ঋণের বোঝা কমলে এবং সেচব্যবস্থা উন্নত হলে তাঁরা নতুন উদ্যমে চাষাবাদে মনোযোগ দিতে পারবেন। বিশেষ করে ঋণ মওকুফের ঘোষণাকে তাঁরা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৃষিঋণ মওকুফ ও সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবনের মতো প্রতিশ্রুতি উত্তরবঙ্গের ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। উত্তরাঞ্চলের একটি বড় অংশ কৃষিনির্ভর হওয়ায় এসব ঘোষণা বিএনপির জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।

জনসভা শেষে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের মৌলিক চাহিদাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই চার খাতকে শক্তিশালী করলেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, কৃষকের মুখে হাসি ফেরানোই হবে বিএনপি সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক মাঠে নামতে চায়। কৃষিঋণ মওকুফ, সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবন এবং কৃষিবান্ধব নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলটি কৃষকদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে, যা আগামী দিনের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে—সেদিকেই এখন নজর সবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত