আ.লীগকে ফিরিয়ে আনতে একটি দলের ষড়যন্ত্র চলছে: নাহিদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৬ বার
নাহিদ

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে যেমন প্রচারণা জোরদার হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যে তীব্র হয়ে উঠছে বিতর্ক। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নির্বাচনী জনসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঘিরে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোডে এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দল সারাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করছে। তার বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এনসিপির উদ্বেগ ও অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন সাধারণ কোনো ভোট নয়; এটি কার্যত একটি গণভোট। তার ভাষায়, জনগণের সামনে এবার সুযোগ এসেছে অতীতের ভুল, দুঃশাসন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে রায় দেওয়ার। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আবেগে নয়, বরং বিচার-বিবেচনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা দিয়ে ভোট দেওয়াই হবে এই সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, একটি দল অতীতে ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে সারাদেশে গণহারে মামলা দিয়েছিল, অথচ এখন নির্বাচনের মাঠে এসে সেই মামলাগুলো তুলে নেওয়ার কথা বলছে। নাহিদ ইসলামের দাবি, এটি একটি কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন, যার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ওই দলটি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি থেকেও সরে এসেছে, যা রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন তোলে।

তিনি আরও বলেন, একটি দল বর্তমানে সারাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি। নাহিদ ইসলামের মতে, এসব কর্মকাণ্ড অতীতে আওয়ামী লীগের শাসনামলের আচরণেরই পুনরাবৃত্তি, যা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি।

জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি একতরফাভাবে হামলা ও সহিংসতা চলতেই থাকে, তাহলে জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে। তার বক্তব্যে নির্বাচনের দিনকে রাজনৈতিক জবাব দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এনসিপির এই জনসভায় দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, সেই আওয়ামী লীগকে আবারও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি দলের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন জায়গায় সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তার মতে, এটি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন খুনি যদি দাবি করে যে আজ তাকে ফাঁসি দিলে কাল অন্যকে ফাঁসি দেওয়া হবে না—তার নিশ্চয়তা কোথায়? তাহলে কি সেটাই ন্যায়বিচার হতে পারে? তার বক্তব্যে অতীতের সহিংসতা ও জুলাই মাসে সংঘটিত কথিত গণহত্যার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, সেই ঘটনার চিন্তা এখনও কিছু রাজনৈতিক শক্তির মাথায় রয়ে গেছে, যা দেশবাসীর জন্য উদ্বেগজনক।

জনসভায় মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির প্রীতম দাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বক্তব্যে প্রীতম দাস বলেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকার মানুষের সুবিধার জন্য তিনি বিগত ৫ আগস্টের পর থেকেই নানা সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হলে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নসহ পুরো এলাকাকে একটি মডেল অঞ্চলে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ অঞ্চলটি চা শিল্প, পর্যটন এবং নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে তারা বঞ্চিত। জনসভায় বক্তারা এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এবারের নির্বাচন এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ এনে দিয়েছে।

সভা শেষে এনসিপির উদ্যোগে একটি নির্বাচনী প্রচারণা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক দাবিদাওয়া ও নির্বাচনী বার্তা তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য ও জনসভা আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট করে তুলছে। একদিকে সরকারবিরোধী জোটগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সন্দেহ, অন্যদিকে অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

এনসিপির নেতাদের বক্তব্যে যে বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে, তা হলো ভোটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান। এটি ইঙ্গিত দেয় যে দলটি নিজেদের আন্দোলন ও রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে নির্বাচনকেই রাখতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, এসব বক্তব্য ও প্রচারণা ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনসহ সারাদেশে এর রাজনৈতিক প্রতিফলন কীভাবে ঘটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত