প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সহিংসতা, ভীতি ও অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে বিএনপি এখন সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে নব্য ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। ওই পোস্টে নির্বাচনকালীন সহিংসতা, রাজনৈতিক সন্ত্রাস, নারীদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ এবং বিরোধী মত দমনের অভিযোগ এনে বিএনপি ও তাদের নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে সমালোচনা করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এই বক্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আব্দুল আলিম আরিফ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পরিবেশকে ভয়াবহভাবে অশান্ত করে তুলতে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে লিপ্ত হচ্ছে। তার ভাষায়, বিগত মাসগুলোতে বিএনপি যে আচরণ প্রদর্শন করেছে, তা একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং তারা ক্ষমতা দখলের নেশায় দেশকে অস্থিতিশীল করার পথে এগোচ্ছে।
তিনি শেরপুর জেলার একটি সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে দাবি করেন, শেরপুর-৩ আসনে বিএনপির সন্ত্রাসীদের পরিকল্পিত হামলায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়; বরং এটি বিএনপির দীর্ঘদিনের সহিংস রাজনৈতিক কৌশলেরই বহিঃপ্রকাশ।
আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, বিএনপির চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং বিরোধী রাজনৈতিক মতের ওপর হামলা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি প্রচারণার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন সামনে রেখে তারা মাঠপর্যায়ে ভীতি সৃষ্টি করছে, যাতে সাধারণ মানুষ ভোটের অধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত হয়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “বিগত ১৬ মাস ধরে বিএনপি ও তাদের লোকজন যে নয়া ফ্যাসিবাদ কায়েম করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তারই একটি নতুন রূপায়ণ হিসেবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের আরো উচ্ছৃঙ্খল সহিংস আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্ষমতার মোহে বিএনপি আজ অন্ধ। তারা সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে তিনি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী নারীদের ওপর হামলা ও হেনস্থায় জড়াচ্ছে, যা সমাজের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, প্রকাশ্য জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নারীদের শ্লীলতাহানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সভ্যতা ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
আব্দুল আলিম আরিফ আরও দাবি করেন, নিকাবি ও হিজাবি নারীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ফোবিয়া তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তার মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার কৌশল নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজন উসকে দেওয়ার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। তিনি বলেন, নারীদের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য ও আচরণ সমাজকে আরও অস্থির করে তুলছে এবং নির্বাচনের পরিবেশকে কলুষিত করছে।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের সচেতন ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ এই নব্য ফ্যাসিবাদী প্রবণতা রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তার ভাষায়, জনগণ আর ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকবে না। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ব্যালটের মাধ্যমেই জনগণ নারী হেনস্থাকারী, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ ও রাজনৈতিক মাফিয়াদের উপযুক্ত জবাব দেবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়াকে সহিংসতা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে ভণ্ডুল করার যে চেষ্টা চলছে, তা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। সচেতন নাগরিক হিসেবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এই বক্তব্য বর্তমান নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এটি ছাত্ররাজনীতি ও তরুণ সমাজের একটি অংশের মনোভাবও তুলে ধরে। তারা মনে করছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য ততই তীব্র হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, আব্দুল আলিম আরিফের এই বক্তব্য নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সহিংসতা, নারীর নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এখন দেখার বিষয়, এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কী ভূমিকা নেয় এবং নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলকভাবে সম্পন্ন হয়।