পল্লবীতে পাঁচ কোটি টাকার চাঁদা না পেয়ে হামলা ,গুলিতে গ্রেপ্তার আট

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ২৭ বার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর পল্লবীর আলব্দিরটেক এলাকায় আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে চাঁদাবাজির ঘটনায় একে একে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও গুলির ঘটনাটি সারা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত র‍্যাব ও থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে এই আটজনকে আটক করেছে।

র‍্যাব-৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি সাংবাদিকদের জানান, সোমবার সকালে র‍্যাব-৪ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে রয়েছে মো. আব্বাস (২৯), মো. ইয়ামিন (২৭), মো. সোহেল (২৩), মো. মাজহারুল (৩০) ও মো. চাঁদ মিয়া (২২)। এর আগে রোববার থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল আরও তিনজন— নিলয় হোসেন বাপ্পী, মামুন মোল্লা ও মোহাম্মদ রায়হান।

ঘটনার সূত্রপাত ১১ জুলাই রাতে, যখন পল্লবীর আলব্দিরটেক এলাকায় ‘এ কে বিল্ডার্স’ নামের একটি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে চাঁদাবাজ চক্রটি। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ওই দিন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা হঠাৎ হামলা চালিয়ে চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখনো সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।

র‍্যাব জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-৪। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজ চক্রের পাঁচজনকে সোমবার ভোররাতে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে, জামিল নামে এক ব্যক্তির নির্দেশেই তারা হামলায় অংশ নিয়েছিল। তবে জামিল এখনো পলাতক রয়েছে।

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সোহেলের বিরুদ্ধে তিনটি, আব্বাসের বিরুদ্ধে চারটি এবং চাঁদ মিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি করে হত্যা, মাদক ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলার প্রস্তুতিও চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই আবাসন প্রকল্পগুলোর কাছে চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় রয়েছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, নতুন প্রকল্প শুরু হলেই নানা নামে চাঁদা দাবি করা হয়, আর না মানলে হামলা-ভাঙচুর, এমনকি গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। ফলে নির্মাণ খাতের উদ্যোক্তারা আতঙ্কে রয়েছেন।

র‍্যাব-৪ ও পল্লবী থানা পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মূল হোতা জামিলসহ চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এ ঘটনায় রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরজুড়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি আরও জোরদার করা ছাড়া বিকল্প নেই। অন্যথায় সন্ত্রাসী চক্রগুলোর বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ আর বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই শঙ্কিত হয়ে পড়বে, যা নগরীর স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেই হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত