ফেনীসহ ৩৬ জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ গড়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৯ বার
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ গড়ার ঘোষণা

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ দীর্ঘদিন ধরে অপশাসন, দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্য দিয়ে গেছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার মাধ্যমে গত ১৬ বছরে এক ভয়াবহ দুঃশাসন কায়েম করা হয়েছিল। তবে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সেই অপশাসনের অবসান ঘটেছে এবং দেশবাসী নতুন করে মুক্তির স্বাদ পেয়েছে। তিনি বলেন, এই মুক্তির পর্বকে অর্থবহ করতে হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে ফেনীসহ আশপাশের জেলার হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তৃতার শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান ফেনীর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার সময় তিনি ফেনীতে এসে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় ফেনীবাসীর যে সহমর্মিতা ও দৃঢ়তা তিনি দেখেছেন, তা দেশের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলার কারণেই আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তিনি বলেন, ফেনীবাসী আবরার ফাহাদকে আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে এবং এই স্মরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস জোগাবে।

ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশে উন্নয়নসংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ঘোষণা করেন, ফেনীসহ দেশের ৩৬টি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করা হবে। তার মতে, স্বাস্থ্যখাতের এই সম্প্রসারণ সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ফেনী নদীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই ফেনীসহ আশপাশের এলাকাগুলো বন্যার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই ফেনী নদীর তীরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হবে, যাতে মানুষের জানমাল ও ফসল রক্ষা পায়। পাশাপাশি ফেনীতে একটি অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক পথে রাখার অন্যতম উপায়। আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুললে ফেনীর তরুণরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারবে।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ফেনীর তিনটি আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সবাইকে মিলেমিশে একাকার হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তি বা দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে হবে। তার মতে, এই ঐক্যই হবে আগামী দিনের গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশের ভিত্তি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জনগণের সামনে নতুন সুযোগ এসেছে, যা কাজে লাগাতে হলে সৎ নেতৃত্ব ও নৈতিক রাজনীতির বিকল্প নেই। সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ টি এম মাসুম বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান—এই তিনটি খাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগই পারে একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূইয়া, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি রাশেদ প্রধান। তারা সবাই একমত প্রকাশ করে বলেন, সরাসরি ফিল্ড পর্যায়ের উন্নয়ন ছাড়া রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে না। তাই নির্বাচিত হলে তারা এলাকার বাস্তব সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন।

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-৩ আসনের আরেক মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবির আহমদসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং তরুণ সমাজকে কর্মমুখী করার জন্য একটি সমন্বিত রাষ্ট্রীয় নীতি প্রয়োজন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন পর ফেনীতে এমন বড় রাজনৈতিক জমায়েত হয়েছে, যেখানে উন্নয়ন ও মানবিক রাজনীতির কথা গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। অনেকেই বলেন, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালের মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ফেনী অঞ্চল স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তে পৌঁছাবে।

সমাবেশ শেষে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, তার দল ক্ষমতায় এলে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন করাই তাদের লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত