দেবীদ্বারে চাঁদাবাজদের ঘুম হারাম করবেন হাসনাত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ বার
দেবীদ্বারে চাঁদাবাজদের ঘুম হারাম করবেন হাসনাত

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দেবীদ্বারে এক নির্বাচনী সমাবেশে ভোটারদের উদ্দেশ্যে বললেন, তিনি দায়িত্ব পেলেই চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও ঋণখেলাপিদের ঘুম হারাম করে দেবেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভোট দুইভাবে হয়, এক ধরনের ভোট হয় চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও টেন্ডারবাজদের সঙ্গে আপস করে, আর অন্য ধরনের ভোট হয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলে। আমি আমার ভোটারদের কাছে এসেছি খেটে খাওয়া মানুষের সহায়তায়।

হাসনাত আব্দুল্লাহ এই নির্বাচনী সমাবেশে আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সবাইকে তিনি শেষবারের মতো সতর্ক করে দিচ্ছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, কেউ যদি ভুল পথে চলে, তবে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, যারা সত্যিকারের কর্মসংস্থান করতে চায় তাদের জন্য বৈধভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ রাখা হবে, চাই তা দোকান, গরুর খামার বা অন্য কোনো বৈধ পেশা হোক। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসা চালাতে চায় বা চাঁদাবাজি করে, তাদের জন্য কোন ছাড় নেই।

তিনি বলেন, “মাদক, চাঁদাবাজি আর জনগণ একসঙ্গে চলতে পারে না। দেবীদ্বারের অনেক বড় নেতা এতদিন মাদক সম্রাটদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে রাজনীতি করেছে। কিন্তু এখন তারা পালানোর পথ খুঁজছে। ইনশাআল্লাহ, অল্প সময়ের মধ্যে তারা শেষ হবে।” তাঁর এই মন্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ছবি থাকলেই কেউ তার লোক হয়ে যাবে না। এমনকি তার নিজ বাবা যদি অবৈধ সুবিধা চায়, তাকেও কোন সুবিধা দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাজনীতিতে আপসের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। অতীতে নির্বাচনের আগে সামান্য সহায়তা দিয়ে পাঁচ বছর জনগণের কাছে যাওয়া হত, কিন্তু তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, “প্রথম ১৫ দিন আমি জনগণের কাছে সাহায্য চাইব, আর পরবর্তী পাঁচ বছর আমি জনগণের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।”

সমাবেশে কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, দেবীদ্বার উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম এবং দেবীদ্বার উপজেলা এনসিপি ভারপ্রাপ্ত মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকারসহ স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি সমাবেশকে রাজনৈতিক দিক থেকে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেবীদ্বারে মাদক, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কিছু রাজনৈতিক দলের প্রভাব এখনও জনগণের জীবনযাত্রা ও নির্বাচনী পরিবেশে স্পষ্টভাবে প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে একজন নতুন প্রার্থী, যিনি স্পষ্টভাবে এসব অসঙ্গতি দূর করার অঙ্গীকার করছেন, তা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আশা এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভোটারদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ যে তারা প্রার্থী নির্বাচন করতে পারেন, যিনি শুধু নির্বাচনে নয়, পরবর্তী সময়ে জনগণের পাশে থাকতে প্রস্তুত।

হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা যাচাই করা যায়, তিনি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না, বরং জনগণের জীবনযাত্রার উন্নয়নে, সামাজিক স্বচ্ছতা রক্ষায় এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর দৃষ্টি রাখার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের সতর্ক করছেন, কিন্তু পাশাপাশি বৈধ উপায়ে জীবিকা নির্বাহের সুযোগও নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, তার লক্ষ্য কেবল কঠোরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ন্যায় ও মানবিক সমাধানের মাধ্যমেও সমস্যা সমাধান করা।

স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই মিশ্র। একাংশ ভোটার মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের প্রভাবে যে সামাজিক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধুমাত্র শক্তিশালী নীতি এবং প্রজ্ঞাবানের সঙ্গে সমাধান করা সম্ভব। অন্যদিকে, কিছু ভোটার এখনও সাবধান এবং চান প্রার্থী নির্বাচনের পরে তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে।

রাজনীতিবিদরা বলছেন, নির্বাচনী সমাবেশের এমন মানবিক ও সামাজিক বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীর যোগাযোগকে শক্তিশালী করে। এছাড়া প্রার্থী যিনি স্থানীয় সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী, তিনি স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিশ্বাস এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে সক্ষম। এটি ভোটের ফলাফলের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি দেবীদ্বার এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে আগ্রহী। মাদক, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটকে পরাজিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে বৈধভাবে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামাজিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে এলাকার জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা করবেন। এটি কেবল নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার একটি নীতি ও মানবিক প্রতিশ্রুতি।

নির্বাচনী সমাবেশ শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এবং ভোটাররা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন প্রার্থী স্থানীয় সমস্যা সমাধানে দৃঢ় ভূমিকা রাখবেন। দেবীদ্বারের অনেক পরিবারই মাদক ও চাঁদাবাজির নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি। হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে এ অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করতে পারে।

এই নির্বাচনী বক্তব্য শুধুমাত্র ভোটারদের উৎসাহিত করতেই নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের জন্যও একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা, সামাজিক ন্যায় এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত