শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা, তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৬ ডিগ্রি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৯ বার
শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা, তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৬ ডিগ্রি

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার — দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চা বাগান ও পাহাড়বেষ্টিত সৌন্দর্যপূর্ণ শহর শ্রীমঙ্গলে এই শীতের মৌসুমে তাপমাত্রা নেমেছে উদ্বেগজনকভাবে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ছয়টায় শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড করা হয়েছে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, যা সকাল ৯টায় আরও কমে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। দেশের মধ্যে এই সময়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে শ্রীমঙ্গলই এখন শীর্ষে রয়েছে।

শীতের প্রকোপে এলাকার মানুষজন সকালে ঘর থেকে বের হতে হিমশিম খাচ্ছেন। শীতের হিমায়িত হাওয়া, পাহাড়ি ঝোঁকা এবং চা বাগানের সবুজ শোভা এক সঙ্গে মিলিত হয়ে যেন প্রকৃতির এক রহস্যময় চিত্র আঁকছে। স্থানীয়রা জানান, সকাল-বিকেল শীতের তীব্রতা অনুভূত হলেও দিনের বেলা রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়। তবে রাতের ঘুমে শীত আরও জোরালো হয়ে উপস্থিত হয়, যার ফলে প্রায়শই মানুষ গরম কম্বল ও চায়ের হালকা কাপে দিন শুরু করেন।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক রাকিবুল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই সময়ে শ্রীমঙ্গল দেশের সবচেয়ে ঠাণ্ডা এলাকা হিসেবে রেকর্ড করছে। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনরাতের পার্থক্য থাকায় লোকজন শীতের প্রকোপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট পাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, শীতকালীন এ তাপমাত্রা সাধারণত এই অঞ্চলের জন্য স্বাভাবিক হলেও চলতি বছরের শীত কিছুটা তীব্র।

শ্রীমঙ্গলের মানুষ শুধুমাত্র ঘরবন্দি থাকছেন না; সকালবেলা চা বাগান ও অন্যান্য কৃষি কাজেও সক্রিয় রয়েছেন। তবে শীতের তীব্রতা ও কম তাপমাত্রার কারণে চা বাগানিদের দেহ ও মানসিক স্বাস্থ্যও প্রভাবিত হচ্ছে। স্থানীয় চা শ্রমিক শফিকুল ইসলাম বলেন, “সকাল সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত মাঠে কাজ করা অনেক কষ্টকর। শীতের হাওয়ায় দেহ কাঁপে, হাত-পা বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়। তবে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”

শ্রীমঙ্গলের শীত শুধু মানুষকে প্রভাবিত করছে না; পশুপাখি, কৃষিজমি এবং স্থানীয় অর্থনীতিও এর প্রভাবের আওতায় আছে। পাহাড়ি অঞ্চলের ছোট নদী ও ঝর্ণার পানি শীতের তীব্রতার কারণে কিছুটা কমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এমন তাপমাত্রার ওঠানামা চা চাষীদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, কারণ চায়ের পাতার স্বাস্থ্য ও উৎপাদন তাপমাত্রার সাথে সংবেদনশীল।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগও নাগরিকদের সতর্ক করেছে। তারা বলেছেন, শীতকালীন তাপমাত্রা যতই কম হোক, খোলা জায়গায় দীর্ঘ সময় কাটানো থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য হালকা গরম পোশাক, কম্বল এবং পর্যাপ্ত উষ্ণ পানীয় গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শীতজনিত সর্দি, কাশি এবং নিউমোনিয়ার ঝুঁকি এ সময় বেড়ে যায়, তাই স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে।

সামাজিকভাবে শ্রীমঙ্গলের মানুষরা শীতকে ইতিবাচকভাবে উপভোগও করছেন। পাহাড়ি এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কুয়াশাচ্ছন্ন দৃশ্য এবং চা বাগানের সবুজ ভরা পথের সঙ্গে শীতের মিলন পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। স্থানীয় পর্যটক আলীম উদ্দিন জানান, “শীতের সকালগুলো চা বাগানে হাঁটতে এক অন্যরকম আনন্দ দেয়। তাপমাত্রা কম হলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য একেবারে উপভোগ করার মতো।”

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রীমঙ্গলের এই শীত সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সর্বাধিক প্রকোপ দেখা দেয়। রাতের তাপমাত্রা ৯–১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকায় দিনের তুলনায় অনেক বেশি শীত অনুভূত হয়। তবে দিনের রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা ১২–১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়, যা সামান্য স্বস্তি দেয়।

সরকারি পর্যায়ে শীতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন কম্বল বিতরণ এবং প্রয়োজনে আশ্রয় কেন্দ্র পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তাছাড়া, সামাজিক সংস্থা ও চা কোম্পানিগুলোও শীতপ্রবণ শ্রমিকদের জন্য উষ্ণ পানীয় ও হালকা খাবারের ব্যবস্থা করছেন।

সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, শ্রীমঙ্গলের শীত শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্যকে মনোমুগ্ধকর করে তুলছে না, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও সচেতন ও সাবধানী করছে। তাপমাত্রার ওঠানামা এবং হাওয়া-কুয়াশার সমন্বয়ে শীতকে একটি চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আনন্দের মিশ্রণ হিসেবে উপভোগ করছে স্থানীয়রা। শ্রীমঙ্গল এখন দেশের মধ্যে শীতের তীব্রতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্বীকৃত।

শ্রীমঙ্গলে চলতি এই তাপমাত্রার ওঠানামা এবং শীতের প্রকোপ আগামী কিছুদিনেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই স্থানীয়রা নিজেদের উষ্ণ রাখার পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেবেন বলে আশাবাদী। পাহাড়ি কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল থেকে সূর্যোদয়ের মৃদু আলো, সবুজ চা বাগান ও ঠাণ্ডা হাওয়া মিলিয়ে শ্রীমঙ্গলের এই শীতকে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হিসেবে পরিচিত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত