গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরায়েলকে ৬.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬১ বার
গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরায়েলকে ৬.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র অনুমোদন

প্রকাশ: ৩১  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ওয়াশিংটন — গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ৬.৬৭ বিলিয়ন ডলারের আক্রমণাত্মক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার জানিয়েছে, ইসরায়েল এই অর্থে ৩০টি অ্যাপাচি আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার, ১.৯৮ বিলিয়ন ডলারের মূল্যের পদাতিক আক্রমণকারী যান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো বোয়িং ও লকহিড মার্টিন কোম্পানির মাধ্যমে বিক্রি হবে। এছাড়া, তৃতীয় সামরিক চুক্তি হিসেবে ৭৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অন্যান্য হেলিকপ্টার ও হালকা ইউটিলিটি হেলিকপ্টারের জন্য আরও ১৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে। ইসরায়েলি বাহিনী ইতিমধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নানা সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য ইসরায়েলকে শক্তিশালী এবং প্রস্তুত আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করা গুরুত্বপূর্ণ।” তারা আরও উল্লেখ করেছে, এই অস্ত্র বিক্রয় তাদের নিরাপত্তা লক্ষ্য এবং সামরিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে পাঠায়। এসবের অধিকাংশই সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়, বিক্রয়ের মাধ্যমে নয়। মানবাধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতিতে থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার জন্য। তাদের মতে, এই অস্ত্র সরবরাহ ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যামূলক কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী প্রায়শই ক্ষুদ্র আক্রমণ চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতির এই সময়ে আক্রমণকারীদের হাতে আধুনিক ও শক্তিশালী অস্ত্র থাকায় প্রায় ৫০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবের কাছে ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি সৌদি আরব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং স্থানীয় মিত্রদের স্থল বাহিনীকে রক্ষা করবে এবং এই অঞ্চলে সমন্বিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সৌদি আরবের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ইরানের কাছে একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানো হয়েছে। ঠিক একই সময়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেয়া হয়। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এই সপ্তাহের শুরুতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে বলেছেন, সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক বিক্রয় কৌশল রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক উদ্দেশ্য বহন করছে। অন্যদিকে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন যে, গাজায় চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার সময় এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সংকটপূর্ণ করে তুলতে পারে।

ফিলিস্তিনের নাগরিকরা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মানবিক সঙ্কটে রয়েছে। খাদ্য, ওষুধ, এবং পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্যের ওপর তাদের নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকায় অস্ত্র বিক্রির ফলে শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া গাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা দুষ্কর।

অন্যদিকে, মার্কিন সরকারের যুক্তি হচ্ছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ধরনের অস্ত্র বিক্রয় ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর আক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মোটের উপর, ইসরায়েলের কাছে ৬.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মানবিক সংগঠন ও জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা এই পদক্ষেপকে কড়া সমালোচনা করেছেন, তবে মার্কিন প্রশাসন এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার অংশ হিসেবে দেখছে। গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির মাঝেই এই চুক্তি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টির সম্ভাবনা রাখছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত