চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক–কর্মচারী ধর্মঘট, কার্যক্রম অচল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৯ বার
চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক–কর্মচারী ধর্মঘট, কার্যক্রম অচল

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং অন্যান্য জাহাজ টার্মিনালগুলোতে শ্রমিক ও কর্মচারীদের ডাক্করানো অপারেশনাল কর্মবিরতির কারণে কার্যক্রম প্রায় অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি জেটি ও টার্মিনালগুলোতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজকে ব্যাহত করেছে। বন্দরের কর্মচারী এবং বেসরকারি শ্রমিকেরা কেউ কাজে যোগ না দেওয়ায় ইতোমধ্যেই কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রতিকূলতা দেখা দিয়েছে।

বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাক অনুসারে এই কর্মসূচি ডাকা হয়েছে সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, যেখানে এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক সংগঠন কর্তৃক এ সিদ্ধান্তকে দেশের স্বার্থহানিকর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় এবং আজ সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সমস্ত পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া রোববার একইভাবে আট ঘণ্টার জন্য প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রাখার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

সকাল আটটায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি এবং এনসিটিতে কার্যক্রমে প্রায় সম্পূর্ণ ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ থাকায় কনটেইনার সরবরাহ ও পণ্য হ্যান্ডলিং প্রায় থমকে গেছে। তবে এনসিটিতে বেসরকারি ডিপো থেকে আনা রপ্তানি পণ্যবাহী কিছু কনটেইনার জাহাজে তোলা হচ্ছে।

বন্দর জেটি ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বার্থ অপারেটরস, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বোটসোয়া) সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জিসিবি টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য শ্রমিক বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি। এর ফলে জিসিবিতে কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।”

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন প্রথম আলোকে জানান, কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রমিক ও কর্মচারীরা অংশ নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিকেল চারটা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে। এই ধর্মঘটের ফলে বন্দরে জাহাজগুলোর লোডিং এবং আনলোডিং কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ধরনের কর্মবিরতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর হওয়ায়, এখানকার যে কোনো ব্যাঘাত দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বন্দরজাতীয় বিভিন্ন শিল্প ও রপ্তানি খাত এই ধরনের অবস্থার কারণে সময়মত পণ্য সরবরাহে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।

এনসিটি সংক্রান্ত এই ইজারা বিরোধী আন্দোলনকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে দেশের স্বার্থ ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। তারা বলছেন, বিদেশি কোম্পানিকে পরিচালনায় দেওয়া হলে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং দেশের অর্থনীতিকেও ক্ষতি হতে পারে। শ্রমিক নেতারা মনে করান, বন্দর পরিচালনায় স্থানীয় শ্রমিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

অপরদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অপারেটরদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই ধরনের ধর্মঘট এবং কর্মবিরতি বন্দর পরিচালনা ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের দেরি সৃষ্টি করছে। তারা দাবি করছেন, সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলেও, এই ধরনের একপক্ষীয় কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

নিরীক্ষকরা মনে করছেন, বন্দর এবং শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা চলমান থাকলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। এটি শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে না, বরং দেশের সার্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়নেও বাধা দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এই অবস্থার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রভাবগুলোও আলোচিত হচ্ছে। শ্রমিকরা দেশের স্বার্থের জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে দাবি করছেন, তবে বন্দর ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাদের উপর চাপ ও সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে বলা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ও অন্যান্য টার্মিনালে শ্রমিক ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই ধর্মঘটের ফলশ্রুতিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানো এবং পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। বন্দরের সকল পক্ষই আশা করছে, দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে কার্যক্রম স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত