প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী গণসংযোগকালে এই সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান নুরুল করিম জানান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপির কিছু কর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, ‘বিএনপির কর্মীরা আমাদের প্রচারণায় বাধা দেয় এবং লাঠিসোটা ব্যবহার করে হামলা চালায়। এতে আমাদের সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন।’ আহতদের মধ্যে ফয়জুল্লাহ, ইমন, আব্দুল হালিম, শাহে আলম, রায়হান, শামীম ও তানজিলকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর টবগী ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামী নেতা-কর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিলও করেছে।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান ঘটনাটিকে পাল্টা অভিযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, সকাল সাতটায় জামায়াতের কয়েকজন কর্মী বিএনপি কর্মীদের বাড়িতে প্রচারণার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। এ সময় বাড়িতে থাকা এক নারী গোসল করছিলেন। প্রচারণা শুরু করার সময় এ ঘটনার কারণে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর স্থানীয় বাজারে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে, যার ফলে ৪–৫ জন আহত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর জামায়াতের পক্ষ মহড়া প্রদর্শন করেছে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গণসংযোগকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কোনো অভিযোগ থাকলে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখার পাশাপাশি উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দকে সতর্ক করেছেন যাতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সহিংসতার ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণার এই ধরনের সংঘর্ষ এলাকার সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলের কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাবেন এবং ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকারের সুযোগ পাবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতার ঘটনা শুধু দুই দলের মধ্যে বিরোধকে তীব্র করছে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা কমাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে বিরত রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় এবং সংযমী ভূমিকা নিতে হবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও তাদের কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনা নির্বাচন শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে ঘটায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, যদি এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি পায়, তবে তা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। স্থানীয় মানুষও জানিয়েছে যে, ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় আতঙ্কিত বা বিরক্ত হতে পারেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ভোলার বোরহানউদ্দিনে নির্বাচনী গণসংযোগে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষ এই নির্বাচনী প্রচারণার জন্য একটি নেতিবাচক সূচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের কাছে স্থানীয় মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভোটের দিন নাগরিকরা নিরাপদভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।