এবার ভোট দিয়েই জিততে হবে, কোনো দুইনম্বরি নেই: ইসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ বার
এবার ভোট দিয়েই জিততে হবে, কোনো দুইনম্বরি নেই: ইসি

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচনের প্রতি সকলের সতর্ক দৃষ্টি এবং স্বচ্ছতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ভোলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, এবার ভোট দিয়েই জিততে হবে, জেতার জন্য কোনো দুইনম্বরি বা নকলপদ্ধতির সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ের জন্য আর কোনো shortcut নেই, প্রত্যেক প্রার্থীকে জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সাফল্য অর্জন করতে হবে।

সভায় ইসি সানাউল্লাহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি বলেন, ভয়ভীতি, ত্রাস বা জোরপূর্বক প্রভাব কোনোভাবেই নির্বাচনী দায়িত্বকে প্রভাবিত করতে পারবে না। নির্বাচনের পরিবেশ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ, নৌবাহিনী এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসি সানাউল্লাহ নির্বাচনের গুরুত্বও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন নয়, এটি দেশের ভাবমূর্তি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অবস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ তিনি বলেন, এই নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে ভোটারদের জন্য সহজলভ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাখতে হবে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যেন সব নাগরিকের কাছে স্বচ্ছ ও সহজ হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার স্পষ্টভাবে সকল নির্বাচন সংশ্লিষ্টকে সতর্ক করেন, কোনো ব্যক্তি যদি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ বা পক্ষপাতের কারণে নিরপেক্ষতা হারায়, তবে কমিশন ‘ভয়ানক কঠিন’ পদক্ষেপ নেবে। তিনি বার্তা দেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক কোনো নির্দেশনা দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি সবাইকে মনে করিয়ে দেন, ভোটের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সকলের দায়িত্ববোধ ও সততা অপরিহার্য।

সভায় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে নির্বাচনের নিরাপত্তা, ভোটার সুবিধা, ভোটকেন্দ্রের সুষ্ঠু প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় কৌশলগত পরিকল্পনা আলোচনা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে। ভোটারদের জন্য ভোট কেন্দ্রকে সহজলভ্য ও নিরাপদ করা, ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখা, এবং ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষা করা সকলের মূল দায়িত্ব। তিনি বার্তা দেন, কোনো ধরনের প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা ত্রাস সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডকে যেন কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়।

সভায় ইসি সানাউল্লাহ এমনও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত। ভোটাধিকার ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের মানুষের মতামত প্রকাশিত হয়, এবং দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ওপর তা প্রভাব ফেলে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করেন, যাতে কোনো পক্ষই ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।

নির্বাচন কমিশনারের এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এবার জেতার জন্য কোন প্রকার shortcut বা অনৈতিক পদ্ধতি নেই। তিনি নিশ্চিত করেন, ভোটের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারিত হবে। প্রতিটি ভোটার এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্টের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা, যে তারা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, সহজলভ্যতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় যে, ভোটারদের সঙ্গে যেকোনো প্রকার অনৈতিক আচরণ, প্রভাব বা চাপ প্রয়োগ করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সকলকে মনে করিয়ে দেন, নির্বাচন শুধু প্রার্থীদের জন্য নয়, এটি দেশের জনগণ, সমাজ এবং দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত