প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যা করার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে। এটি জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড ছিল চরম নৃশংস। ঘটনাস্থলে গুলি চালানো হয় এবং মৃতদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। এই মামলায় মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে আট জন গ্রেফতার রয়েছেন।
কারাগারে থাকা আট আসামির মধ্যে আছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবি তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এস আই মালেক, এস আই আরাফাত উদ্দিন, এ এস আই কামরুল হাসান, এস আই শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল। বাকি আসামিদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন এখনও পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত আদালত নিরাপত্তা ও কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। মামলার ধরন ও ঘটনার নৃশংসতা দেশের ইতিহাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। রায় ঘোষণার পর দেশের নাগরিকরা আশা করছে, আইন অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করা হবে এবং বিচারের মাধ্যমে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হবে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রতিটি প্রমাণাদি এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিস্কার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই মামলা শুধু আইনগত দিক থেকে নয়, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়পরায়ণতার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব বহন করে।
রায় ঘোষণার দিন ধার্য হওয়ায় মামলার বাদী, নিহতদের পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা আদালতের সামনে উপস্থিত থেকে ন্যায়ের আশা করছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলায় কার্যকর বিচার প্রয়োগ করা হলে ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির মানদণ্ড আরও দৃঢ় হবে।
মামলার প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, “এই ঘটনা ছিল খুবই নৃশংস এবং পরিকল্পিত। আইন ও প্রমাণের আলোকে প্রতিটি আসামির দায় নির্ধারণ করা হবে। আশা করছি, রায় কার্যকরভাবে ঘোষণা হলে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যাবে।”
আসামিদের মধ্যে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত থাকায় মামলাটি বিশেষভাবে সংবেদনশীল এবং সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রায় ঘোষণার পর দেশের বিচার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সংস্থা সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মামলার ন্যায়পরায়ণ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আদালত বিভিন্ন পর্যায়ে সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আসামিদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সঠিক বিচার কার্যকর করার জন্য ট্রাইব্যুনাল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য হওয়ায় দেশের আইনপ্রণেতা, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নজর রাখছেন। আশা করা যাচ্ছে, রায় কার্যকরভাবে ঘোষণা হলে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হবে এবং ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী বার্তা প্রদান হবে।