আসন্ন নির্বাচনে ৮ আসনে নেই বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৮ বার

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপির দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ দেখা যাবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব আসনে জোট ও স্থানীয় সমঝোতার কারণে ধানের শীষের অনুপস্থিতি ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

দলীয় সূত্র জানায়, জোটের শরিকদের জন্য ১১টি আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে এর মধ্যে ৭টি আসনে ধানের শীষের পরিবর্তে জোটের শরিকরা তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। বাকি ৪টি আসনে বিএনপিতে যোগদান করে প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

রোববার কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে। ফলে এই আসনেও ধানের শীষ প্রতীক থাকছে না। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদি এই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়, তবে ধানের শীষের অনুপস্থিত আসনের সংখ্যা বেড়ে ৯টি হবে।

দলীয় সমঝোতা ও জোটের অংশ হিসেবে কিছু আসন বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে। সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী-১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এই আসনে নিজ দলের প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

এর পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরও ধানের শীষের পরিবর্তে নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

একদিকে, ধানের শীষ প্রতীক পেতে নিজের দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ। তিনি কুমিল্লা-৭ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন। এছাড়া এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন থেকে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খানও পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব আসনে ধানের শীষের অনুপস্থিতি এবং জোটের শরিকদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে লড়াই নির্বাচনী মাঠকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ভোটারদের মনোভাবের উপর এটি সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তারা মনে করেন, নির্বাচনী প্রার্থীদের নিজস্ব পরিচিতি ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতার কারণে ধানের শীষ না থাকা সত্ত্বেও প্রার্থীরা ভালো ফল করতে পারে, তবে জোটের সমন্বয় এবং ভোট ভাগাভাগি ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করবে।

এই নির্বাচনে দলীয় সমঝোতা, প্রার্থীদের পদত্যাগ এবং আদালতের মনোনয়ন বাতিলের মতো ঘটনায় আসনগুলোতে ভোটের পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, ভোটাররা স্থানীয় নেতৃত্ব, প্রার্থী প্রভাব এবং জোটের সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ইতিহাসে এমন ঘটনা নতুন নয়, তবে এবার ধানের শীষের প্রতীক না থাকা আসনের সংখ্যা ভোটারদের সচেতনতা এবং জোটের প্রভাব পরীক্ষার মতো। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর এর প্রভাব নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন তৈরি করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত