যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রেক্ষিতে ইরানে ৮২ মেট্রো ও ৩০০ পার্ককে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫ বার

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার জল্পনা-কল্পনার মধ্যে তেহরানে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিকদের খাবার, পানি ও বিশ্রামের সুযোগসহ জরুরি সেবা প্রদানের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তেহরানে গণমাধ্যমকে আলাপকালে এই তথ্য দিয়েছেন তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি। তিনি জানান, তেহরান সিটি করপোরেশনের প্যাসিভ ডিফেন্স কমিটি রাজধানীর বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর বিস্তৃত জরিপ চালিয়েছে। এতে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন স্কুল ও পাবলিক স্থানে মোট ৫১৮টি পুরনো আশ্রয়কেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশই বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।

আলী নাসিরি বলেন, তেহরানের ৮২টি মেট্রো স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থানে খাদ্য ও পানি মজুত, বিশ্রামাগার এবং অন্যান্য জরুরি সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র নির্দেশক সাইনবোর্ড ও লেবেল স্থাপনের কাজও শিগগিরই সম্পন্ন হবে। এছাড়া শহরের পার্কিং লট ও পাবলিক কমপ্লেক্সসহ ৩০০টিরও বেশি ভূগর্ভস্থ স্থানকে সম্ভাব্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইরান সরকারের এই প্রস্তুতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং ওয়াশিংটনের ক্রমাগত হামলার হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি জানিয়েছেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও আলোচনার কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, “কৃত্রিম মিডিয়ার যুদ্ধের ডামাডোলের বাইরে আমরা আলোচনার জন্য কাঠামো তৈরি করছি।” তবে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের প্রস্তুতির পাশাপাশি তেহরান শহর প্রশাসন স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও জরুরি পদক্ষেপ নিতে সচেষ্ট। নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে নাগরিকদের সহজে পৌঁছানোর জন্য নির্দেশক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে এবং নিয়মিত জরুরি সেবা প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ইরান নিয়ে তার চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছেন। শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, “আমরা ওই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক সম্পদ জোরদার করেছি। আশা করি তারা (তেহরান) এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে যা গ্রহণযোগ্য।” তবে হামলা না হলে ইরান আরও শক্তিশালী হবে, এমন মন্তব্য সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রসঙ্গে তিনি কেবল বলেন, “কেউ কেউ এটা মনে করতে পারে, আবার কেউ কেউ মনে করে না।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা এবং দুই দেশের সামরিক শক্তির প্রদর্শন মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাস-প্রতিরোধ, কূটনৈতিক সমঝোতা ও নাগরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে তেহরানের মতো বড় শহরের জন্য পরিকল্পিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এক ধরনের প্রস্তুতি এবং শান্তি রক্ষা ব্যবস্থার প্রতিফলন।

নাগরিকদের সচেতনতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির মাধ্যমে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় শহরের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। তেহরান কর্তৃপক্ষের আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থা, খাদ্য ও পানি মজুতি, আশ্রয় নির্দেশনা এবং নিরাপত্তা পদক্ষেপ নাগরিকদের জীবন রক্ষা এবং বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয় প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শহরের প্রশাসন ও সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো তেহরানবাসীর জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেট্রো স্টেশন, পার্ক এবং পাবলিক কমপ্লেক্সগুলোর স্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় আরও জোর দিচ্ছে। নাগরিকদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইরানের শক্তি ও সংকট ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার একটি বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত