প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু নাঈম। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে পদ্মা সেতুর চার নম্বর পিলারের কাছাকাছি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ওই দিন এমআইএসটির ১৮ জন শিক্ষার্থীর একটি দল নৌকাযোগে পদ্মা সেতু ভ্রমণে বের হয়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নৌকাটি সেতুর চার নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছালে নাঈম ও তার দুই বন্ধু নদীতে গোসল করতে নেমেন।
প্রবল স্রোতের কারণে তারা বিপাকে পড়েন। দু’জন শিক্ষার্থী কোনোমতে সাঁতরে নৌকায় উঠতে সক্ষম হলেও নাঈম মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে উদ্ধারকারী দুটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
নিখোঁজ শিক্ষার্থী আবু নাঈম নাটোর জেলার বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, তিনি খুবই শান্ত স্বভাবের এবং পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীসহ পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগে আছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত এবং শীতের কারণে উদ্ধারকাজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, নদীর পানি ও তীব্র স্রোত নিখোঁজ শিক্ষার্থীর অবস্থান নির্ধারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উদ্ধারকাজে সর্বোচ্চ সম্পদ মোতায়েন করা হয়েছে এবং দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে। আশেপাশের গ্রাম ও মাওয়া পয়েন্ট এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় মাছধরা নৌকাধারীরা উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন।
মাওয়া অঞ্চলের পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন নয়। নদীর প্রবল স্রোত, গভীরতা ও হঠাৎ করে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অনেক সময় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তাই প্রশাসন জনসাধারণকে নদীতে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়ে থাকে।
এমআইএসটির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে ভ্রমণ ও নদীতে কার্যক্রমের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
পরিবার, সহপাঠী ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং প্রত্যাশা করছেন নাঈমকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নদীর তীরে বিশেষ নজর রাখা হবে।