প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে হঠাৎ করেই দাম কিছুটা কমে গেছে, যা আবারও বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। স্বর্ণের এই অস্থিরতা শুধু বাজারের ব্যবসায়ীদের নয়, সাধারণ মানুষকেও উদ্বিগ্ন করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি সম্প্রতি বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে এবং তিনটি মূল কারণ তুলে ধরেছে।
প্রথমত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত শুল্ক নীতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আচরণকে প্রভাবিত করছে। বিভিন্ন পণ্যে হঠাৎ শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এমন সময়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে। এমা ওয়াল, হারগ্রেভস ল্যান্সডাউন-এর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলী, বলেন, “বিশ্বে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। এটি তাদের নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম।” ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা ডলারের বিকল্প হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নিচ্ছেন।
দ্বিতীয়ত, চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বর্ণের দামকে প্রভাবিত করছে। ইউক্রেন ও গাজায় সংঘটিত সাম্প্রতিক যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণ এবং গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে হুমকি-সঙ্কট আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা স্বর্ণের দামকে দ্রুত বৃদ্ধি দিতে পারে, কারণ এটি ইতিহাসে সবসময় ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে কাজ করেছে।
তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় এবং রিজার্ভ বৃদ্ধি বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামকে ত্বরান্বিত করছে। বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর রাশিয়ার ডলার সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ায় বিভিন্ন দেশ ডলারের বিকল্প হিসেবে স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়াতে আগ্রহী হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দামও ত্বরান্বিত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান মনোনয়ন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তাও স্বর্ণের দামের অস্থিরতার একটি কারণ হিসেবে কাজ করেছে। ট্রাম্প যখন কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়নের নিশ্চয়তা দেন, তখন দাম আবার সামান্য হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণকে নিরাপদ মনে করা হলেও, স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দাম বৈচিত্র্যপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যেহেতু বিশ্ব অর্থনীতি এখনও ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে, তাই স্বর্ণের দাম অস্থির থাকা একটি সাধারণ এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিশ্বে রাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং আন্তর্জাতিক শুল্ক নীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া অর্থনৈতিক অস্থিরতা মিলিত হয়ে স্বর্ণকে বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে তুলে ধরছে। বিশেষ করে, ডলারসহ অন্যান্য প্রচলিত মুদ্রার ওপর বিশ্বস্ততা কমে যাওয়ার কারণে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা একটি অব্যাহত প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।