১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস? ইসি জানিয়েছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৩ বার

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জন্য তৈরি বিশেষ নিবন্ধন পোর্টাল নিয়ে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সূত্রপাত ঘটে তখন, ইসির ওয়েবসাইটে ১৪ হাজারের বেশি সাংবাদিকের নাম, এনআইডি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সাময়িকভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। তবে এ বিষয়ে ইসি বলেছে, “তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি, বিষয়টি প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে হয়েছে।”

ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল মল্লিক জানান, “গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের আবেদন সম্পর্কিত অংশ ক্লোজ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে পর্যবেক্ষকদের জন্যও আবেদন বন্ধ করার সময়, যারা আগেই লগইন করেছিলেন তারা কিছু সময়ের জন্য অ্যাডমিন প্যানেলসহ নির্দিষ্ট তথ্য দেখতে পেয়েছিলেন। এর মধ্যে নাম, এনআইডি বা ফোন নম্বর কিছু ব্যবহারকারীর জন্য দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে। তবে ডাউনলোড করার কোনো অপশন ছিল না। এটি তথ্য ফাঁসের সমান নয়।”

তিনি আরও বলেন, “ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়নি এবং কোনো পদ্ধতিতে তথ্য অপব্যবহার হয়েছে এমন অভিযোগ এখনও আসেনি। এটি শুধু ওয়েবসাইটের কাজ চলাকালীন ওপেন থাকা একটি প্রযুক্তিগত বিষয়।” ইসির কর্মীরা জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটটি তাদের নিজস্ব প্রোগ্রামার দলের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে, কোনভাবে এআই বা তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি।

প্রথমবারের মতো ইসি এই অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনকারীরা নিজস্ব ড্যাশবোর্ডে লগইন করে প্রয়োজনীয় দলিল আপলোড করতেন। তবে তথ্য দৃশ্যমান হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকে অভিযোগ করেছিলেন, পোর্টালটি পেশাদার কোনো সফটওয়্যার ফার্মের মাধ্যমে তৈরি হয়নি, বরং এআই বা অজ্ঞাত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

রুহুল মল্লিক এই অভিযোগের জবাবে বলেন, “ওয়েবসাইট আমাদের নিজস্ব প্রোগ্রামার দ্বারা তৈরি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকা সত্ত্বেও এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। কিছু তথ্য সাময়িকভাবে দৃশ্যমান হলেও এটি কোনো ফাঁস নয়। ডাউনলোড বা অপব্যবহারের সুযোগ ছিল না।”

তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঘটনায় ইসি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের আবেদন কার্যক্রম এখন পুনরায় ম্যানুয়ালি যাচাই করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আগের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীরা তাদের দলিলাদি সরাসরি ইসির কার্যালয়ে জমা দেবেন এবং যাচাই শেষে কার্ড প্রদান করা হবে।

ইসির আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হলে প্রথমে নাম, এনআইডি এবং ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হতো। এরপর নিজস্ব ড্যাশবোর্ডে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করতে হতো। ইতোমধ্যে বহু সাংবাদিক এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি মূলত সেই আবেদনের তথ্য সাময়িকভাবে দৃশ্যমান হওয়ার কারণে।

সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবার নির্বাচনের জন্য ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার জন্য ইসি এই উদ্যোগ নিয়েছিল। যদিও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, তবুও কমিশন নিশ্চিত করেছে, তথ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড পুরোপুরি রক্ষা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের সময় সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক তথ্যের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো ভুল বা তথ্য ফাঁসের গুজব নির্বাচনের স্বচ্ছতার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ইসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ঘটনা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং সাময়িক দৃশ্যমানতার কারণে হয়েছে, কোনো হ্যাক বা অনৈতিক ব্যবহারের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনের আগের কয়েক সপ্তাহে ইসি ওয়েবসাইটের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী এবং নিরাপদ করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের আবেদন প্রক্রিয়া পুনরায় ম্যানুয়ালি যাচাই করার ফলে ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।

ইসি আশা করছে, এই ব্যাখ্যা এবং পুনর্গঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ কমবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সঠিক তথ্য ও নিরাপদ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ইসি কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত