প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আগামীকাল ১৬ জুলাই পালিত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই শহীদ দিবস’। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যেখানে অংশ নিতে ক্যাম্পাসে আসছেন অন্তর্বর্তী সরকারের চার মন্ত্রীপর্যায়ের উপদেষ্টা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, পরিবেশ ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মুক্তিযুদ্ধ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, যিনি একজন বীরপ্রতীক। এই চার উপদেষ্টার সফর নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর প্রস্তুতির চিত্র।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. তানজীমউদ্দীন খান। শিক্ষাক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক ইতিহাস ও প্রগতিশীল স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানটিকে জাতীয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ভোর সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শহীদ আবু সাঈদের জন্মভূমি, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে যাত্রার মধ্য দিয়ে। সকাল সাড়ে ৭টায় সেখানে তার কবর জিয়ারত করা হবে। এরপর সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেরোবি ক্যাম্পাসে ফিরে কালো ব্যাজ ধারণ ও শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় শহীদ আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, যা একটি স্মারক স্থাপত্য হিসেবে পরবর্তীকালে ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে নিরন্তর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এরপর ১০টা ১৫ মিনিটে স্থাপন করা হবে শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, যেখানে উপদেষ্টারা ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৩টায় আয়োজন করা হয়েছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দিনশেষে বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। শহীদ পরিবারের আরও ২১ জন সদস্য মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। উপদেষ্টারা থাকবেন দর্শক সারিতে, যা প্রতীকীভাবে দেখায়—এই দিবস কেবল রাষ্ট্র বা প্রশাসনের নয়, বরং শহীদ পরিবার ও সাধারণ শিক্ষার্থীরও।”
ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে আবু সাঈদের আত্মত্যাগ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। তার একবছর পর ২০২৫ সালের এই জুলাইয়ে এই দিবস পালনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কেবল তার স্মৃতিকে সংরক্ষণই করছে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বৈষম্য, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এক মূল্যবান পাঠও দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সরাসরি অংশগ্রহণ এ দিনটিকে একটি বৃহৎ জাতীয় স্বীকৃতি দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে শিক্ষার এক প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠছে বেরোবি, যেখানে ইতিহাসের স্মৃতি শুধু সংরক্ষিত নয়, নব প্রজন্মের মাঝে তা বোধ ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।