প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতন্ত্রের সংরক্ষণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যাদের কাছে নারীদের সম্মান নেই, তাদের কাছে দেশ কখনোই নিরাপদ হতে পারে না। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি জামায়াতসহ দেশের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ওপর কঠোর নিন্দা জানান এবং জনগণকে তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার কেন্দ্রীয় এলাকায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তারেক রহমান বলেন, “যারা সুযোগ পেলে নারীদের কেমনভাবে অপমান করবে, তা আমরা একাত্তরে দেখেছি। ইতিহাস আমাদের শেখায়, নারীর প্রতি অসম্মান দেশের নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের দলেও নারীরা অংশ নিচ্ছেন। তবে তাদের উপস্থিতি যেহেতু নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং নারীর অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি কিছু মহল ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় সময় নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি যোগ করেন, যারা নারীর মর্যাদা হেয় করার পাশাপাশি মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে, তারা পুনরায় ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে এমন পরিস্থিতিতে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দেশের ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৯১ সালে ছাত্রজনতার সংগ্রামের মাধ্যমে দেশের অধিকার রক্ষা করা হয়েছে। এই ইতিহাস আমাদের শেখায়, দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য জনগণকে সদা সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন আন্দোলন করেছে। আন্দোলনের সময় দলের নেতাকর্মীরা গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, ফলে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। কিন্তু এবার সময় এসেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবে। তারেক রহমান বলেন, “আমরা কথার ফুলঝুরি করি না। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”
তারেক রহমান দেশের সকল ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিবেচনা করে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, গৃহিণীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে, যাতে তারা কারো মুখাপেক্ষী না হয়। এছাড়া খুলনাকে শিল্পনগরী হিসেবে পুনরায় গড়ে তোলা হবে, নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তরুণদের জন্য আইটি পার্ক গড়ে তোলা হবে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দেশকে পুনর্গঠনের প্রতীক ধানের শীষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার অভিজ্ঞতা রাখে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। এরপর খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করে এবং দেশের উন্নয়নে সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে পুনরায় দেশের নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি দেন যে, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করবে। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, দেশের সঠিক পথে পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ নেতৃত্ব অপরিহার্য, এবং এই অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র বিএনপির পক্ষেই রয়েছে।
সর্বশেষ, তারেক রহমান ভোট ও নির্বাচনের গুরুত্বের পাশাপাশি নারী অধিকার, সামাজিক ন্যায় ও দেশের পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিককে সজাগ থাকতে হবে, বিশেষত নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তার বক্তব্যে একটি বার্তা স্পষ্ট, যে যারা নারীর প্রতি অসম্মান দেখায়, তাদের হাতে দেশের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কখনো ছেড়ে দেওয়া যায় না।