এপস্টেইন নথিতে আলোচনায় মীরা নায়ার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৩ বার
এপস্টেইন নথিতে আলোচনায় মীরা নায়ার

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মা, বিশিষ্ট পরিচালক মীরা নায়ারের নাম যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইন নথিতে উঠে এসেছে। এই নথি অনুযায়ী, ২০০৯ সালে মীরা নায়ার উপস্থিত ছিলেন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সাবেক প্রেমিকা গিজলাইন ম্যাক্সওয়েলের ম্যানহাটনের বাসভবনে আয়োজিত একটি পার্টিতে। নথিটি এপস্টেইন ফাইলস বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগসূত্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

জানা যায়, মীরা নায়ারের ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘অ্যামেলিয়া’-এর প্রচারের অংশ হিসেবে তিনি ওই পার্টিতে যোগ দেন। নিউ ইয়র্কের জনসংযোগকর্মী পেগি সিগাল একটি ইমেইলে এ বিষয়টি উল্লেখ করেন। ইমেইলে বর্ণনা করা হয়, ২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর ভোরে তিনি গিজলাইন ম্যাক্সওয়েলের ম্যানহাটনের টাউনহাউস থেকে বের হচ্ছেন। ওই পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং পরিচালক মীরা নায়ার।

ইমেইলে আরও উল্লেখ আছে, চলচ্চিত্র ‘অ্যামেলিয়া’ দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। একই বার্তায় সিগাল ভবিষ্যতে যে চলচ্চিত্র ও বিনোদন শিল্প–সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন, তার কথাও উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ নথিতে এই ইমেইলসহ ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি ভিডিও এবং প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার ছবি, যা প্রাথমিক প্রকাশনার সময় গোপন রাখা হয়েছিল।

অ্যামেলিয়া চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন মীরা নায়ার। এটি একটি জীবনীভিত্তিক নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র, যেখানে বিমানচালক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন হিলারি সোয়াঙ্ক এবং তার স্বামী, প্রকাশক জর্জ পুটনামের ভূমিকায় ছিলেন রিচার্ড গিয়ার। মীরা নায়ারকে চলচ্চিত্রের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পার্টিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশনায় বিচার বিভাগ ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথি শুধুমাত্র এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডই উদঘাটন করে না, বরং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্কের দিকেও নতুন তথ্য প্রদান করছে। প্রকাশিত উপাদানের মধ্যে এমন নথি রয়েছে, যা ডিসেম্বরে প্রাথমিক দফায় প্রকাশ করা হয়নি। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছিল এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য সংবেদনশীল তথ্য সংশোধন বা গোপন রাখা হয়েছিল।

মীরা নায়ারের নাম উঠে আসার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এপস্টেইন ফাইলস বিতর্কের একটি নতুন দিক উন্মোচিত করেছে। যে পার্টিতে মীরা নায়ার উপস্থিত ছিলেন, সেখানে অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তি যেমন বিল ক্লিনটন ও জেফ বেজোসও উপস্থিত ছিলেন, যা বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

চলতি প্রকাশনাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে নজরকাড়া, কারণ এগুলো এপস্টেইনের অপরাধ ও তার প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের বিস্তৃত দিকগুলি উদঘাটন করছে। বিশেষভাবে মীরা নায়ারের উপস্থিতি, যিনি চলচ্চিত্র এবং বিনোদন শিল্পে স্বনামধন্য, এফিলিয়েশন ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

নিশ্চয়ই এই নথি প্রকাশনা সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এপস্টেইন নথি বিতর্ক এখন শুধুমাত্র প্রভাবশালী পুরুষদের কর্মকাণ্ড পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং প্রভাবশালী মহিলাদেরও অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করছে। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যেই সংবেদনশীল বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

যদিও মীরা নায়ার পার্টিতে উপস্থিত থাকার বিষয়টি শুধুই চলচ্চিত্র প্রচারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই জানা গেছে, তবে নথিতে নাম ওঠার পর সামাজিক ও গণমাধ্যমে তা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকাশনা আরও বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান চালানোর প্রয়োজন তৈরি করেছে, যাতে এপস্টেইন নেটওয়ার্কের পুরো চিত্রটি বোঝা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত